(ক)
মানুষের রক্তের লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকায় বিদ্যমান অ্যান্টিজেনের মতো এক ধরনের অ্যান্টিজেন রয়েছে, একে রেসাস অ্যান্টিজেন বা রেসাস ফ্যাক্টর (Rh factor) বলা হয়।
(খ)
দেহকোষের অন্তঃপরিবেশ ও বহিঃপরিবেশের মধ্যে অভিস্রবণিক চাপের সমতা রক্ষা করার প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে।
দেহমধ্যস্থ তরল পদার্থ ও দ্রবীভূত লবণের ঘনত্বের ওপর অভিস্রবণ প্রক্রিয়া নির্ভর করে। প্রাণীর জীবনপ্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে দেহকোষের তরল পদার্থ এবং কোষের বাইরের তরল পদার্থ অর্থাৎ রক্তের প্লাজমা, কলারস ও লিম্ফ ইত্যাদির মধ্যে পানি ও লবণের ঘনত্বের সমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। অর্থাৎ, দেহের অন্তঃঅভিস্রবণিক চাপের সমতা বিধানের মাধ্যমে অসমোরেগুলেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
(গ)
উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যে বলা হয়েছে, "জাইগোট বা ভ্রূণের মৃত্যুর ফলে $3:1$ অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন অনুপাতের সৃষ্টি হয়।"
এই ঘটনাটি ঘটে লিথাল জিন বা মারন জিনের প্রভাবে। লিথাল জিনের কারণে হোমোজাইগাস অবস্থায় ভ্রূণের মৃত্যু হয়, যার ফলে মেন্ডেলের ১ম সূত্রের স্বাভাবিক অনুপাত $3:1$ পরিবর্তিত হয়ে $2:1$ হয়।
জিনতত্ত্ববিদ ক্যুনো (Cuénot) ১৯০৫ সালে ইঁদুরের গায়ের রঙের ক্ষেত্রে প্রথম লিথাল জিনের উপস্থিতি লক্ষ করেন। তিনি দুটি হলুদ রঙের ইঁদুরের মধ্যে ক্রস করানোর পর সব সময় $2:1$ অনুপাতে হলুদ ও মেটে রঙের ইঁদুর পান।
ধরা যাক,
ইঁদুরের গায়ের হলদে রঙের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $A^y$
ইঁদুরের গায়ের মেটে রঙের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $a$
যেহেতু হলদে রঙের জন্য দায়ী জিন $A^y$ একটি লিথাল জিন এবং এটি হোমোজাইগাস অবস্থায় ($A^y A^y$) থাকলে ভ্রূণাবস্থায় ইঁদুর মারা যায়, তাই জীবিত হলদে রঙের ইঁদুরগুলো সর্বদা হেটেরোজাইগাস ($A^y a$) হয়।
দুটি হলদে ইঁদুরের মধ্যে ক্রসের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

হলদে রঙের জন্য দায়ী জিন $A^y$ হোমোজাইগাস অবস্থায় থাকার কারণে $A^y A^y$ জিনোটাইপবিশিষ্ট শাবক জন্মের পূর্বেই জরায়ুতে ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের গ্যাস্টুলেশন ধাপে মারা যায়। এ জন্য ফিনোটাইপিক অনুপাত $3:1$ এর পরিবর্তে $2:1$ হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি সঠিক।
(ঘ)
উদ্দীপকের প্রথম অনুপাতটি হলো $13:3$। নন-অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ার কারণে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম হিসেবে ফিনোটাইপিক অনুপাত $9:3:3:1$ এর পরিবর্তে $13:3$ হয়। এটি মূলত প্রকট ও প্রচ্ছন্ন এপিস্ট্যাসিসের (Dominant and Recessive Epistasis) কারণে ঘটে থাকে।
নিচে $13:3$ অনুপাতটির জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
ধরা যাক,
সাদা লেগহর্ন মুরগির রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $C$
রঙিন পালক সৃষ্টিতে বাধাদানকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন = $I$
সাদা ওয়াইনডট মুরগির রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $c$
বাধাদানকারী জিনের প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = $i$
অতএব,
সাদা লেগহর্নের জিনোটাইপ = $CCII$
সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ = $ccii$
একটি বিশুদ্ধ সাদা লেগহর্নের সাথে একটি বিশুদ্ধ সাদা ওয়াইনডটের ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধরে ($F_1$) সবগুলো মুরগিই সাদা পালকযুক্ত পাওয়া যাবে। কারণ, রঙিন পালকের জিন $C$ উপস্থিত থাকলেও বাধাদানকারী প্রকট জিন $I$ এর উপস্থিতির কারণে রঙিন পালক প্রকাশ পায় না।
$F_1$ জনুর ক্রসের জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

$F_1$ জনুর সদস্যদের মধ্যে পরস্পর ক্রস ঘটালে $F_2$ জনুর ফলাফল নিচের চেকারবোর্ডের মাধ্যমে দেখানো হলো:
চেকারবোর্ড থেকে দেখা যায় যে, $F_2$ জনুর ১৬টি সন্তানের মধ্যে ১৩টি সাদা এবং ৩টি রঙিন পালকযুক্ত হবে।
অতএব, ফিনোটাইপিক অনুপাত হবে:
সাদা : রঙিন = $13:3$
এটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি অন্যতম ব্যতিক্রম।