Facebook Pixel

মহিবুল উচ্চশিক্ষার জন্য 'ক' রাষ্ট্রে গেছেন। এটি একটি উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন। রাজনৈতিক দলগুলো সুসংহত। এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। সময়মতো দলগুলোর সম্মেলন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতা নির্বাচিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এতে করে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এদেশের নেতারা দেশপ্রেমিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান। ক. 'অধ্যাপক' কোন ধরনের নেতৃত্ব? খ. সম্মেহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোন ধরনের? এর বৈশিষ্ট্য লেখ। ঘ. 'ক' রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের তুলনামূলক আলোচনা কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) 'অধ্যাপক' হলো বিশেষজ্ঞসুলভ নেতৃত্ব। (খ) কোনো বিশেষ নেতা যখন তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, বক্তব্য এবং কাজের মাধ্যমে জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। এই ধরনের নেতৃত্ব জনগণকে আবেগপ্রবণ করে তোলে এবং তারা অন্ধভাবে নেতার অনুকরণ করতে আগ্রহী হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। (গ) 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হলো গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব। নেতৃত্ব হলো মানুষকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে মানুষকে পরিচালিত করা হয়। গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এমন একটি পদ্ধতি যেখানে নেতা একক সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলের সদস্য বা জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতের ওপর গুরুত্ব দেন। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্র একটি উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে রাজনৈতিক দলগুলো সুসংহত এবং তাদের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। দলগুলোর নিয়মিত সম্মেলন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়। এছাড়া জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। এই বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. জনগণের অংশগ্রহণ: এই নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ সদস্য বা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। ২. মতামতের স্বাধীনতা: এখানে ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। ৩. জবাবদিহিতা: গণতান্ত্রিক নেতা তার কাজের জন্য দলের সদস্য বা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন। ৪. সম্মিলিত সিদ্ধান্ত: একক আধিপত্যের পরিবর্তে সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় বা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। (ঘ) 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হলো আদর্শ গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, যার সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কিছু সামঞ্জস্য থাকলেও মৌলিক কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শাসন পরিচালনায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামতের স্বাধীনতা এবং দায়িত্ববোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে আমরা দেখি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চিত হয়, নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারিত হয় এবং জাতীয় স্বার্থে দলগুলোর মধ্যে গভীর সহযোগিতা থাকে। এছাড়া সেখানকার নেতারা দেশপ্রেমিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের লক্ষণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে বাহ্যিকভাবে গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকলেও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নিয়মিত সম্মেলন বা স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয় না, বরং বংশগত বা প্রভাবশালী নেতৃত্বের আধিপত্য দেখা যায়। এছাড়া জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা এবং রাজনৈতিক বিভক্তি ও পারস্পরিক বিরোধিতার কারণে 'ক' রাষ্ট্রের মতো সহযোগিতামূলক পরিবেশের অভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা অত্যন্ত প্রবল, যা গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করে। পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হলো একটি সুসংহত ও আদর্শ গণতান্ত্রিক মডেল, যেখানে দলীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা বিদ্যমান। বিপরীতে, বাংলাদেশের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটলেও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং নেতৃত্বের নৈতিক গুণাবলির ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। ফলে 'ক' রাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের চর্চা অপেক্ষাকৃত দুর্বল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মহিবুল উচ্চশিক্ষার জন্য 'ক' রাষ্ট্রে গেছেন। এটি একটি উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন। রাজনৈতিক দলগুলো সুসংহত। এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা রয়েছে। সময়মতো দলগুলোর সম্মেলন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দলের নেতা নির্বাচিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। এতে করে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এদেশের নেতারা দেশপ্রেমিক, সৎ ও নিষ্ঠাবান।

ক. 'অধ্যাপক' কোন ধরনের নেতৃত্ব?

খ. সম্মেহনী নেতৃত্ব বলতে কী বোঝায়?

গ. 'ক' রাষ্ট্রের নেতৃত্ব কোন ধরনের? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।

ঘ. 'ক' রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের নেতৃত্বের তুলনামূলক আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c| hline textbf'ক' সংগঠন & textbf'খ' সংগঠন hline textস্বৈরাচার প্রতিরোধ & textসকল সদস্য সমভাবাপন্ন hline ...

‘Demos’ শব্দের অর্থ কী?

‘Foedus’ কোন ধরনের শব্দ?

‘Lag’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

'Lead' শব্দের অর্থ কী?

'Leadership' শব্দটি কোন ভাষার?

'X' একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তাঁর উদারতা, সহনশীলতা, দূরদর্শিতা ও সাহস ইত্যাদি গুণাবলির জন্য জনগণ তাঁকে অন্ধভাবে শ্রদ্ধা ...

'X' একটি সংগঠনের সদস্য এবং এ সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনসমর্থনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা। অন্যদিকে, 'Y' যে সংগ...

'X' ও 'Y' আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক। উভয়ে ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। 'X' এর সংগঠনটি জনমতের প্রতি লক্ষ্...

'X' দেশে যে শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান সেখানে দল পছন্দের কোনো সুযোগ নেই। ক্ষমতাসীন দলই সর্বেসর্বা। অপরদিকে, 'Y' দেশে ভিন্ন ভি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।