ক.
অর্থনীতির জনক হচ্ছেন অ্যাডাম স্মিথ।
খ.
নৃবিজ্ঞান মানুষের জীবন পদ্ধতির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয় বলে নৃবিজ্ঞানের সাথে সমাজকর্মের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজকর্ম সমাজে প্রচলিত আদর্শ, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি প্রভৃতির আওতায় থেকে বিভিন্ন কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে। কারণ সমাজকর্ম বিশ্বাস করে, কোনো কর্মসূচি যদি আদর্শ, মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক পরিপন্থি হয় তাতে জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে না। ফলে সে কর্মসূচি কখনো বাস্তবায়িত হবে না। কাজেই বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জ্ঞান সমাজকর্মীরা নৃবিজ্ঞান বিশেষ করে সামাজিক বা সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব পাঠের মাধ্যমে পেয়ে থাকে। কাজেই বলা যায়, নৃতত্ত্বের সাথে সমাজকর্মের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
গ.
উদ্দীপকের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির মনোদৈহিক সমস্যা উদ্ঘাটনপূর্বক তার বিপরীতে যথাযথ সাহায্য প্রদানের জন্য মাহিরকে মনোবিজ্ঞানে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
একজন সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি মানসিক, সামাজিক, দৈহিক ইত্যাদি নানা সমস্যার শিকার হতে পারেন। এমতাবস্থায় সে যদি সহায়তার আশায় মাহিরের মতো সমাজকর্মীর দ্বারস্থ হন তবে তাদেরকে উত্তম পরামর্শ প্রদানের উদ্দেশ্যে মাহিরের মতো সমাজকর্মীকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। উদ্দীপকের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি সহকর্মীদের ষড়যন্ত্রে চাকরি হারিয়েছেন এবং পরিবার থেকেও অপমানিত হয়েছেন। তাই তিনি অত্যন্ত মানসিক চাপ ও অস্থিরতায় ভুগছেন। একজনের পরামর্শে সহায়তা পাওয়ার আশায় তিনি সমাজকর্মী মাহিরের কাছে এসেছেন। এমতাবস্থায় তার সাহায্যার্থে মনোবিজ্ঞানের বিষয়ে মাহিরকে প্রথমেই তার ব্যক্তিত্বের অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করতে হবে এবং মনোচিকিৎসার মাধ্যমে তার মানসিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। উক্ত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি অভ্যন্তরীণ মানসিকচাপ তার দৈহিক স্বাস্থ্যের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে কিনা এ বিষয়েও মাহিরকে খেয়াল রাখতে হবে। তাকে প্রত্যাশিত আচরণেও উৎসাহিত করতে পারেন মাহির। মানুষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন বিশেষ আচরণ করে এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করে মনোবিজ্ঞান'।
কিন্তু এসব জ্ঞান প্রয়োগ করতে হলে একজন সমাজকর্মী হিসেবে মাহিরকে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান নিতে হবে। তাই বলা যায়, মনোবিজ্ঞান বিষয় ছাড়া কোনো সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সহায়তা করা সম্ভব হবে না এবং তার মনোদৈহিক সমস্যার অনুসন্ধান প্রক্রিয়াও সফল হবে না।
ঘ.
মাহিরকে উদ্দীপকের আলোচিত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মীর পাশাপাশি মনোচিকিৎসকের ভূমিকায়ও অবতীর্ণ হতে হবে কারণ উক্ত ব্যক্তির সমস্যা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগেই সমাধান করা সম্ভব।
সমাজকর্মের সঙ্গে মনোবিজ্ঞানের সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন সমাজকর্মী ও মনোবিজ্ঞানে দক্ষ মনোচিকিৎসক সর্বদাই মানুষকে সেবা দিয়ে থাকেন। মনোচিকিৎসক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা বিধানে কাজ করেন এবং একজন সমাজকর্মী ব্যক্তিকে সুস্থতার জন্য পরামর্শ ও সেবা দিয়ে থাকেন। উদ্দীপকের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাহিরকে উভয় ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হতে হবে। উক্ত ব্যক্তিটি সহকর্মীদের ষড়যন্ত্রে চাকরি হারিয়ে এবং পরিবারের কাছে অপমানিত হয়ে অত্যন্ত মানসিক চাপের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। একজনের পরামর্শে তিনি সমাজকর্মী মাহিরের কাছে সমাধানের জন্য আসেন। উক্ত ব্যক্তিকে সেবা ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে মাহিরকে সমাজকর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। আবার তার মনোদৈহিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে মাহিরকে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগ করে মনোচিকিৎসক হিসেবেও ভূমিকা রাখতে হবে। মাহিরের দ্বৈত ভূমিকাই পারবে উক্ত সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সকল সমস্যা থেকে মুক্ত করতে। একজন সমাজকর্মীকে সেবা ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তির মানসিক ও দৈহিক সুস্থতার বিষয়েও অগ্রসর হওয়াই সাহায্যপ্রার্থীর সমস্যা সমাধানে সহায়ক।
তাই পরিস্থিতি ও উদ্দীপকের ব্যক্তির সমস্যার ধরন বিচারে তার সমস্যা সমাধানে মাহিরকে সমাজকর্মীর পাশাপাশি মনোচিকিৎসকের ভূমিকাতেও অবতীর্ণ হতে হবে।