Facebook Pixel

মহান নেতা সমশের মুবিন জাতিকে স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এজন্য তাকে প্রায়ই কারাগারে থাকতে হয়েছে। ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচারী শাসক তাঁকেসহ আরো ৩৪ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। এ প্রহসনমূলক মামলার বিরুদ্ধে বীর জাতি রুখে দাঁড়ায় এবং ক্ষোভে জ্বলে ক্ষোভের উঠে। প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে অবশেষে স্বৈরাচারী শাসক সমশের মুবিনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। ক. ছয়দফা কর্মসূচি কত সালে পেশ করা হয়? খ. ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলাটি সম্পর্কে লেখ। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত গণআন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে কীভাবে সহায়তা করেছিল বলে তুমি মনে কর?

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ

উৎস: Board Exam Question CB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাহোরে ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি পেশ করেন। খ. হাজী শরীয়তউল্লাহ পরিচালিত ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হলো ফরায়েজি আন্দোলন। ফরায়েজি শব্দটি এসেছে আরবি ‘ফরজ থেকে যার অর্থ হলো অবশ্য পালনীয়। হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলার মুসলমানদের কুসংস্কার ও অনৈসলামিক আচার অনুষ্ঠান ত্যাগ করে ফরজ পালনের আহ্বান জানান। মুসলমানদের নানা কুসংস্কার ও অধঃপতন তাকে বিচলিত করে। তিনি এর সংস্কারের লক্ষ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন শুরু করেন। ফরজের ওপর জোর দেওয়ায় এর নাম হয় ফরায়েজি আন্দোলন। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাদৃশ্য আছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মহান নেতা সমশের মুবিন জাতিকে স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাই ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচারী সরকার তাকেসহ আরো ৩৪ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। উদ্দীপকের এ মামলা পুরোপুরিই ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে একরকম অযৌক্তিকভাবেই শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই এ রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্রে পশ্চিমাঞ্চলের আধিপত্য দেখা যায়। পূর্ব পাকিস্তান জনসংখ্যায় বৃহত্তর হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্রের দ্বারা তারা অর্থনৈতিক শোষণ ও দমন-পীড়নের শিকার হতে থাকে। তাদের এ নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রথম সফল আন্দোলন ছিল ভাষা আন্দোলন। এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির প্রাদেশিক সরকারের শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলে তাতে বাগড়া দেন জেনারেল আইয়ুব খান। তিনি সামরিক শাসন জারি করার মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। এমতাবস্থায় তাদের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে সরকারের অত্যাচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। সরকার বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলা দায়ের করে। ১৯৬৮ সালের ১১ এপ্রিল দায়েরকৃত এ মামলার শিরোনাম হয় 'পাকিস্তান রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, উদ্দীপকে বর্ণিত মামলার সাথে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত গণআন্দোলন বাঙালির ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। উক্ত আন্দোলন বাঙালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে বেগবান করার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে সহায়তা করেছিল। ১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। অল্পসময়ের মধ্যে এ প্রতিবাদ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতারা ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অটল থাকে। এ সময় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দিয়ে এক জ্বালাময়ী ভাষণ দেন। এতে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। গণআন্দোলন আরও তীব্র রূপ ধারণ করে এবং প্রশাসন অচল হয়ে পড়ে। এরূপ পরিস্থিতিতে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার এবং সব আসামিকে বিনা শর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ মামলার অবসান ঘটে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গণঅভ্যুত্থানের কারণে পূর্ব পাকিস্তানে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যেতে থাকে। তাই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে জয়লাভ করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে পূর্ব বাংলায় অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা হয় যা অচিরেই মুক্তিযুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনা বাঙালির থেকে মুক্তির পথ রচনা করে। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব বাংলার জনগণ নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করে এবং এর ধারাবাহিকতায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2019)

মহান নেতা সমশের মুবিন জাতিকে স্বৈরাচারী শাসকের হাত থেকে মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এজন্য তাকে প্রায়ই কারাগারে থাকতে হয়েছে। ১৯৬৮ সালে স্বৈরাচারী শাসক তাঁকেসহ আরো ৩৪ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে এবং তাকে গ্রেফতার করে। এ প্রহসনমূলক মামলার বিরুদ্ধে বীর জাতি রুখে দাঁড়ায় এবং ক্ষোভে জ্বলে ক্ষোভের উঠে। প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে অবশেষে স্বৈরাচারী শাসক সমশের মুবিনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। 

ক.

ছয়দফা কর্মসূচি কত সালে পেশ করা হয়?

খ.

ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

গ.

পাঠ্যবইয়ের আলোকে উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলাটি সম্পর্কে লেখ। 

ঘ.

উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত গণআন্দোলন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে কীভাবে সহায়তা করেছিল বলে তুমি মনে কর?

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার, নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাদেরকে নির্বাচনে পরাজিত করার লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল জোটভুক্ত ...

'A' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে রাষ্ট্রের একাংশের একটি রাজনৈতিক দ...

P নামক ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ কর...

"Six Point demand was the Demand for the Survival of the Bangalis." -উক্তিটি কার?

'The Politics of Development the case study of Pakistan' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'X' উপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে...

'X' নামক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা লাভের প্রায় দুই যুগ পর একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর শা...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নতি সাধন হবে। কিন্তু তারা শাসকশ্...

'Z' নামক রাষ্ট্রটি ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা লাভ করে। ওই রাষ্ট্রে বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। স্বাধীনত...

'A' একটি অন্যদের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোট গঠিত হয়। জোট বিপুলভাবে হেরে যায় এবং ক্ষমতাসীন দলের চর...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।