ক.
যুক্তিবাক্যের যে পদ সম্বন্ধে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে উদ্দেশ্য পদ বলে।
খ.
'পিতা' পদটি অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য পদের ওপর নির্ভরশীল, তাই 'পিতা' পদটি একটি সাপেক্ষ পদ।
অর্থের স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তিতে পদকে দুইভাগে ভাগ করা হয় যার মধ্যে একটি হলো সাপেক্ষ পদ। যে পদ অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য পদের ওপর নির্ভরশীল তাকে সাপেক্ষ পদ বলে। 'পিতা' পদটি অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য পদের ওপর নির্ভরশীল। কেননা 'পিতা' পদের অর্থ প্রকাশের জন্য 'সন্তান' পদের ওপর নির্ভর করতে হয়। যেহেতু 'পিতা' পদটি অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য পদের ওপর নির্ভরশীল, তাই 'পিতা' পদটি একটি সাপেক্ষ পদ।
গ.
মাহদিনের কথায় যুক্তির উপাদান অধ্যায়ের ব্যক্ত্যর্থ (Denotation) ও জাত্যর্থ (Connotation) বিষয়টির ইঙ্গিত এসেছে।
একটি পদ একই অর্থে যে বস্তু বা বস্তুসমূহের ওপর প্রযোজ্য হয় তাকে ঐ পদের ব্যক্ত্যর্থ বলে। অর্থাৎ, ব্যক্ত্যর্থ হলো পদের সংখ্যা, ব্যাপ্তি বা বিস্তৃতির দিক। যেমন- মানুষ পদটির ব্যক্ত্যর্থ হচ্ছে 'সকল মানুষ'। কেননা 'মানুষ' পদ দ্বারা অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ-এর সকল মানুষ বোঝায় বা সকল মানুষের ওপর পদটি প্রযোজ্য হয়। আবার একটি পদ যে আবশ্যিক বা সাধারণ গুণ বা গুণাবলি প্রকাশ করে সেই গুণ বা গুণাবলিকে উক্ত পদের জাত্যর্থ বলে। অর্থাৎ, জাত্যর্থ হলো পদের সাধারণ ও অপরিহার্য গুণাবলি। যেমন- 'মানুষ' পদের জাত্যর্থ হচ্ছে 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। কেননা, এ দুটি গুণ মানুষের মধ্যে সাধারণ ভাবে অবস্থান করে এবং গুণ দুটি না থাকলে কাউকে মানুষ নামে আখ্যায়িত করা যায় না।
উদ্দীপকের মাহদিন বললো, কোনো দেশে গাছ-পালা বৃদ্ধি পেলে তাপমাত্রা কমে আবার গাছ-পালা কমলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। একথা শুনে ফাইয়াজ বললো, যুক্তিবিদ্যার স্যারও যুক্তির উপাদান অধ্যায়ে এ ধরনের একটি বিষয় আলোচনা করেছেন। যা ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আলোচ্য বিষয় দুটি ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ.
ফাইয়াজের কথায় ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থ: বিষয়গুলোর ইঙ্গিত আছে। ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মাঝে পারস্পরিক বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ক বিদ্যমান।
একটি পদের দুটি দিক থাকে। একটি হলো ব্যক্ত্যর্থ বা সংখ্যাগত দিক এবং অন্যটি হলো জাত্যর্থ বা গুণগত দিক। পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে অপরিহার্য বা আবশ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে এই সম্পর্ক বিপরীতমুখী । পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের এই বিপরীতমুখী সম্পর্কের চারটি দিক রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্ত্যর্থের দিক থেকে কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ যখন বৃদ্ধি পায় তখন পদটির জাত্যর্থ কমে যায়। যেমন- 'মানুষ' পদের ব্যক্ত্যর্থ বেড়ে ‘জীব’ হলে জাত্যর্থ 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' থেকে কমে কেবল 'জীববৃত্তি’ হয়। আবার, যখন কোনো পদের ব্যক্ত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায় । যেমন- 'জীব' পদটির ব্যক্ত্যর্থ কমে যখন কেবল 'মানুষ' হয় তখন জাত্যর্থ ‘জীববৃত্তি' থেকে বৃদ্ধি পেয়ে 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি' হয়। জাত্যর্থের দিক থেকে যখন একটি পদের জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায় তখন তার ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পায়। যেমন- 'মানুষ' পদটির জাত্যর্থ জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বাড়িয়ে 'জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা' করা হলে ব্যক্ত্যর্থ কমে ‘সকল মানুষ' থেকে কেবল 'শিক্ষিত মানুষ' হয়। আবার, যখন কোনো পদের জাত্যর্থ কমে যায় তখন পদটির ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পায়। যেমন- শিক্ষিত মানুষ' পদটির জাত্যর্থ কমিয়ে জীববৃত্তি, বুদ্ধিবৃত্তি ও শিক্ষা থেকে কেবল 'জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি’ করা হলে ‘শিক্ষিত মানুষ' থেকে বেড়ে ‘সকল মানুষ' হয়।
উদ্দীপকের ফাইয়াজের বক্তব্যেও দেখতে পাই, তার যুক্তিবিদ্যার স্যারও মাহদিনের উল্লিখিত নিয়মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যুক্তির উপাদান অধ্যায়ের একটি বিষয় আলোচনা করেছেন। যা পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী হ্রাস-বৃদ্ধির সম্পর্ককে নির্দেশ করে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ, এদের একটির হ্রাস বা বৃদ্ধিতে অন্যটির বৃদ্ধি বা হ্রাস ঘটে।