(ক)
পরপর দুটি নিউরনের সংযোগস্থলই হলো সাইন্যাপস।
(খ)
কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী দর্শনীয় বস্তু ও চোখের মধ্যবর্তী দূরত্ব অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে উপযোজন বলে। মানুষ দু'চোখকে একই বস্তুতে কেন্দ্রীভূত করে, লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করে এবং পিউপিলের সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট গ্রন্থিটি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি। এই গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বা মাস্টার গ্ল্যান্ড বলা হয়। এই গ্রন্থিটি অন্যান্য গ্রন্থির ক্ষরণ যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
পিটুইটারি হলো অত্যন্ত ছোট (মটর দানার আকৃতির) একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি। আকারে ছোট হলেও এ গ্রন্থিটি যে সব হরমোন ক্ষরণ করে সেগুলো মানবদেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পিটুইটারি গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোনগুলোর মধ্যে সোমাটোট্রপিক হরমোন দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH) থাইরক্সিনের নিঃসরণে ভূমিকা রাখে এবং গোনাডোট্রপিক হরমোন জনন অঙ্গের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, পিটুইটারি গ্রন্থির নিঃসরণ ঠিকমতো না হলে মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এ গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং জননাঙ্গের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। আকৃতিতে অনেক ছোট হলেও এর কাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে একে রাজ গ্রন্থি বা গ্রন্থিরাজও বলা হয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয় যে, পিটুইটারি গ্রন্থি ছোট হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকার হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে দেহে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(ঘ)
উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ক্ষরণ চলতে থাকলে দেহে বিভিন্ন জটিলতা তথা রোগ সৃষ্টি হয়। নিম্নে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:
শৈশবকালে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত STH হরমোন অধিক ক্ষরিত হলে মানবদেহের দৈর্ঘ্য অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে দৈত্যত্ব রোগ হয়। শিশুকালে পরিমিত পরিমাণে GH ক্ষরিত না হলে শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বামনত্ব রোগ হয়। বয়স্ক অবস্থায় অতিরিক্ত GH-এর ফলে মানুষের হাত ও মুখমণ্ডলের অস্থি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে গরিলার মতো রূপ ধারণ করে, যা গরিলাত্ব নামে পরিচিত। বয়স্কদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে চামড়া পুরু, খসখসে ও লোমহীন হয়, গলার স্বর মোটা হয় এবং চোখ-মুখ ফোলা দেখায়, একে মিক্সিডিমা বলে। শিশুদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং বুদ্ধি কম ও অলস প্রকৃতির হয়, একে ক্রিটিনিজম বলে। থাইরক্সিন কম নিঃসরণে থাইরয়েড গ্রন্থি অনেক বড় হয়ে ঘ্যাগ বা গয়টার সৃষ্টি হয়। ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কম হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় ও মূত্রে শর্করা নির্গত হয়, একে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। প্যারাথরমোন কম ক্ষরণ হলে পেশির অস্থিরতা ও খিঁচুনি দেখা দেয়, যাকে টিটেনি বলে। এছাড়া অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি নিঃসৃত কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ অনিয়ন্ত্রিত হলে মানুষের বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ, যেমন—অ্যালার্জি ও আর্থ্রাইটিস হতে পারে।