ক.
‘Positive Philosophy' গ্রন্থের লেখক হলেন অগাস্ট কোঁৎ।
খ.
সমাজে বসবাসরত মানুষকে নিয়ে যে বিজ্ঞান অনুশীলন ও পরীক্ষা- নিরীক্ষা চালায় তাকে সামাজিক বিজ্ঞান বলে।
সামাজিক বিজ্ঞানকে মূলত সমাজের বৈজ্ঞানিক পাঠ বলা হয়। কেননা সমাজ এবং সমাজের মানুষের বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রচেষ্টা থেকে সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব। প্রতিটি সামাজিক বিজ্ঞান সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্কের বিশেষ দিক নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে। তাই বলা যায়, সামাজিক বিজ্ঞান সমাজ সম্পর্কিত' আলোচনার শাস্ত্র।
গ.
উদ্দীপকের মিসেস শায়লার শখ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা মনোবিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো মনোবিজ্ঞান। এ শাস্ত্র মানুষ ও প্রাণীর আচরণ নিয়ে আলোচনা করে। বাহ্যিক আচরণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মনোজগত সম্পর্কে মনোবিজ্ঞান তথ্য সংগ্রহ করে। মানুষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন বিশেষ আচরণ করে মনোবিজ্ঞান এ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করে। বাহ্যিক আচরণের পেছনে যে চালনা শক্তি বা অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া রয়েছে তা আবিষ্কার করা এর মূল লক্ষ্য। বাহ্যিক আচার-আচরণের পেছনে প্রভাব বিস্তারকারী অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো হলো— প্রত্যক্ষণ, প্রেষণা, শিক্ষণ, আবেগ, চিন্তন, অনুভূতি, বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি। এগুলো মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর পরিধিভুক্ত। এছাড়া সমাজস্থ ব্যক্তি, দল, সমষ্টি, সামাজিক পরিবেশ, রীতিনীতি, আদর্শ, মূল্যবোধ নিয়েও মনোবিজ্ঞান আলোচনা করে।
উদ্দীপকের শিক্ষক শায়লার শখ হচ্ছে মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। এছাড়া মানুষের আচরণের পেছনে যেসব চালনা শক্তি রয়েছে তিনি সেগুলো উদ্ঘাটনের চেষ্টা করেন। তার এ শখের বিষয়টি মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। কেননা মনোবিজ্ঞানও মানুষ ও প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং এর পেছনে দায়ী কারণ অনুসন্ধান করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মিসেস শায়লার শখ সমাজবিজ্ঞানের শাখা মনোবিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
ঘ.
সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে একজন সমাজকর্মীর জন্য উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সামাজিক বিজ্ঞানের শাখা তথা মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করা জরুরি— উক্তিটি যথার্থ।
সমাজকর্মীরা ব্যক্তিগত, দলীয়, সমষ্টিগত ও বিভিন্ন আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তার মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ সাধন করে। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন পরীক্ষালব্ধ জ্ঞান সমাজকর্মীদের কল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করে।
সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাজকর্মীকে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে সমাজকর্মীরা তাদের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণ সম্বন্ধে জানতে পারে। আবার অনুশীলনের মাধ্যমে তারা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির আচরণের শর্তাবলি সম্বন্ধেও জানতে পারে। ফলে সমাজকর্মী নিজের আবেগ, অনুভূতি ও আচরণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে। মানব আচরণের বিভিন্ন দিককে কেন্দ্র করে মনোবিজ্ঞানের পৃথক শাখা গড়ে উঠেছে। যেমন— চিকিৎসা, শিশু, অস্বাভাবিক, শিল্প ও শিক্ষা মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি। সমাজকর্মের বিভিন্ন প্রয়োগক্ষেত্রে এসব শাখার জ্ঞান বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয় । সমাজকর্মের প্রধান লক্ষ্য ব্যক্তি, দল, পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা। এজন্য সমাজকর্মীদের সমস্যার কারণ, উৎস, প্রভাব, উপাদান ইত্যাদি উদ্ঘাটন করতে হয়। আর এগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় অধিকাংশ সমস্যার মূলে রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের শক্তিশালী প্রভাব। এক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞনের জ্ঞান সমাজকর্মীকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। এ জন্য একজন সমাজকর্মীর মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন আবশ্যক।
উদ্দীপকে শিক্ষক শায়লার শখ হলো মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করছে। সমাজের বিভিন্ন আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধান করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য সমাজকর্ম পদ্ধতিগুলোর সুষ্ঠু প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান আবশ্যক। এ কারণে একজন সমাজকর্মীর জন্য মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।