Facebook Pixel

মিসেস ফারিয়ার বাবা ১৯৫৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যান। তবে সে বছর বেশ কয়েকজন অফিসার নিয়োগ পেলেও আর কোনো বাঙালি সুযোগ পাননি। ফারিয়ার চাচা পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে অফিসার পদে চাকরির জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যথেষ্ট মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বঞ্চিত হন শুধু বাঙালি হওয়ার কারণে। অতঃপর তিনি চাকরির চেষ্টা না করে পূর্ব পাকিস্তানেই রয়ে যান এবং নিজেদের পারিবারিক ব্যবসায় হাল ধরেন। ক. . তমদ্দুন মজলিস কার নেতৃত্বে গড়ে উঠে ? খ. ভষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম সরব প্রকাশ। – বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে ফারিয়ার চাচা যে অঞ্চলে রয়েছেন তার স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয়েছিল কোন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চল দুটির মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে। — বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গড়ে ওঠে। খ. বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি ভাষা আন্দোলনের মধ্যে নিহিত ছিল। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এর চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে নেমে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন কয়েকজন সংগ্রামী বাঙালি। তাদের সেই আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৫৬ সালের সংবিধানে পাকিস্তান সরকার উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। ভাষা আন্দোলন বাঙালির চেতনায় জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে। শুরুর দিকে এ আন্দোলন সাংস্কৃতিক পর্যায়ে সীমিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের দাবির দিকে চালিত হয়। ভাষা আন্দোলনের ফলেই পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার পরিবর্তে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়। এজন্যই বলা হয় , ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের ভিত্তি ও প্রথম সোপান ৷ গ. উদ্দীপকে ফারিয়ার চাচা যে অঞ্চলে রয়েছে তার স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয়েছে ছয় দফা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে । পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ অন্যান্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফায় বলা হয় , লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে এবং দেশের দুই অঞ্চলের মধ্যে সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকবে। আঞ্চলিক সরকারের হাতে সব ধরনের ট্যাক্স ও কর ধার্য এবং আদায় করার ক্ষমতা থাকবে। তবে কেন্দ্রের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেডারেল ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। এতে আরও বলা হয় , বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে আঞ্চলিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তাছাড়া নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে। ছয় দফার দাবিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ; এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও তা বাঙালিকে স্বাধিকার ও স্বতন্ত্রবোধে উজ্জীবিত করে । পরিশেষে বলা যায় , ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনের দাবী করা হয়েছিল । ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চল তথা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে। মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। ভারত বিভক্তিকালে পাকিস্তানের দুই অংশ যে অর্থনীতির উত্তরাধিকারী হয় , তাতে শুরুর দিকে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বৈষম্য ছিল না। উভয় অংশের জিডিপি প্রায় সমান ছিল। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের শুরু থেকে পূর্ব বাংলা প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করা হয় এবং ষাটের দশকেও তা অব্যাহত থাকে। ফলে ১৯৪৯ - ৫০ এবং ১৯৬৯ - ৭০এর মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জিডিপি পূর্বাংশের তুলনায় লক্ষণীয়ভাবে এবং দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। ষাটের দশকে দুই অংশের প্রবৃদ্ধি হার ছিল যথাক্রমে পূর্বাংশে ৪৩ % এবং পশ্চিমাংশে ৬৪ % । বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট উদ্ধৃত করে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান দেখিয়েছেন , ১৯৫৫ - ৬০ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের রফতানির অংশ ছিল ৩৮ . ৬০ % এবং পূর্ব বাংলার রফতানির অংশ ছিল ৬১ . ৪৭ । বাজেটের ৭৫ % ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানে , ২৫ % ব্যয় হতো পূর্ব পাকিস্তানে। যদিও পূর্ব পাকিস্তান থেকে রাজস্ব আয় ছিল বেশি , শতকরা ৬২ ভাগ । সামাজিক অবকাঠামোগত দিক থেকেও পূর্ব পাকিস্তান অনুন্নত ছিল। হাসপাতাল , অফিস , আদালত , স্কুল - কলেজ , রাস্তাঘাট , ডাকঘর , টেলিফোন প্রভৃতি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছ পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৪৭ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তান সামাজিক অবকাঠামোগতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে অবহেলিত থাকায় পূর্ব পাকিস্তান সামাজিকভাবে অনুন্নত ছিল । সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে , পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মিসেস ফারিয়ার বাবা ১৯৫৫ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হয়ে পশ্চিম পাকিস্তান চলে যান। তবে সে বছর বেশ কয়েকজন অফিসার নিয়োগ পেলেও আর কোনো বাঙালি সুযোগ পাননি। ফারিয়ার চাচা পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে অফিসার পদে চাকরির জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যথেষ্ট মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তিনি বঞ্চিত হন শুধু বাঙালি হওয়ার কারণে। অতঃপর তিনি চাকরির চেষ্টা না করে পূর্ব পাকিস্তানেই রয়ে যান এবং নিজেদের পারিবারিক ব্যবসায় হাল ধরেন।

ক.

. তমদ্দুন মজলিস কার নেতৃত্বে গড়ে উঠে?

খ.

ভষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের প্রথম সরব প্রকাশ। – বুঝিয়ে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে ফারিয়ার চাচা যে অঞ্চলে রয়েছেন তার স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয়েছিল কোন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত অঞ্চল দুটির মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ছিল চরম পর্যায়ে। —বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. কত সালে প্রাদেশিক নির্বাচন হয়েছিল? খ. জাতীয়তাবাদ হচ্ছে সকল মানুষের ঐক্য- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে চিত্র-'ক' কোন আন্দ...

ক. লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় কত সালে? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব কী? বুঝিয়ে লেখো। গ. সঠিক তথ্য ঘটনাপঞ্জি দিয়ে ছকটি পূরণ করো। ঘ. ছক...

ক. যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় কখন? খ. দ্বিজাতি তত্ত্বটি বর্ণনা কর। গ. ছয় দফা কবে সংঘটিত হয়? এর সামাজিক গুরুত্ব বর্ণনা কর। ঘ. কত...

ক. কত সালে ভারত বিভক্ত হয়? খ. 'বাঙালি জাতীয়তাবাদ' ধারণাটি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'ক'-এ নির্দেশিত আন্দোল...

ক. তমদ্দুন মজলিশ কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে? খ. ছয় দফাকে মুক্তির সনদ বলা হয় কেন- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের কথা বল...

ক. চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম কী? খ. শালবন বিহার বলতে কী বোঝায়? গ. গ্রাফচিত্রে ১৯৫২ সালটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? ব্যাখ...

“ এই ভাষারই মান বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছে ওঁরা ওঁদের জন্যে প্রভাত ফেরি , মিছিল , ফুলের তোড়া , আমার ভায়ের রক্তে লেখা ...

“ক” নামক রাষ্ট্রের সরকার ৫% লোকের ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে অসংখ্য মানুষ প্...

অঞ্চলটিতে ধান, পাটের মতো অর্থকরী ফসল উৎপন্ন হয়। কিন্তু এসব থেকে আয় চলে যায় শাসকদের অঞ্চলে। বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় খুব...

অত্যাচারী শাসকরা মানুষের ভাষা, বর্ণের ওপর আঘাত করে। মানুষ নেমে আসে রাজপথে। হরতাল, ধর্মঘট, মিছিল, মিটিংয়ের মাধ্যমে চলে প...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।