Facebook Pixel

মুশফিক একটি অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীদের নিয়ে কথা বলছিল। সে বলছিল ঐ অঞ্চলের অধিবাসীরা ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত। তাদের রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় পুরোহিতদের প্রভাব ছিল খুবই বেশি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা পরিচালিত হতো। তাদের সামাজিক জীবনে শ্রেণিভেদ প্রথা বিদ্যমান ছিল। তথাপি বুদ্ধিমত্তা, কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার গুণে ব্যক্তিবিশেষের সামাজিক মর্যাদা বদলে দিত। বিষয়টি মুশফিকের খুব পছন্দ হলো। ক. সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরকে কী বলা হয়? খ. হিব্রুদের দুটি সাহিত্যকর্মের নাম লিখ। গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত জাতীয় সমাজব্যবস্থা তাদের শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করেছে। বিশ্লেষণ কর। ঘ. মুশফিকের বর্ণনাকৃত জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কী ধরনের চিন্তা-চেতনা পরিস্ফুট হয়ে ওঠে? আলোচনা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাক-ইসলামি আরব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরকে জিগুরাত বলা হয়। খ. প্রাচীন হিব্রু সাহিত্য বেশ সমৃদ্ধ ছিল। ওল্ড টেস্টামেন্টকে কেন্দ্র করেই এ সময়কার সাহিত্য বিকশিত হয়েছিল। ওল্ড টেস্টামেন্টে ইহুদি রাজতন্ত্রের ঘটনা, মহাকাব্যের বিভিন্ন দিক, বিচারকর্তা ও শাসনের নাটকীয় কাহিনি, মহিলাদের অবস্থান ও চরিত্র ফুটেয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া 'জবের পুস্তক' (The Book of Job) রাজা ডেভিডের 'সালমসের পুস্তক' (The Book of Psalms) তাদের অন্যতম সাহিত্যিক নিদর্শন। গ. উদ্দীপকে মিশরীয় সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। তাদের সমাজে শ্রেণিভেদ থাকলেও তারা বুদ্ধিমত্তা, কর্মতৎপরতা ও দক্ষতা দ্বারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারত। যার ফলে সমাজে শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা ছিল। তাছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যাপক প্রভাবের কারণে তাদের সমাজ ব্যবস্থায় পাপের ভয়ে মানুষ অন্যায় থেকে বিরত থাকে। ফলে সমাজে শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা ছিল। এ সমাজে একজন নিম্নশ্রেণির ব্যক্তিও কর্মদ্বারা সমাজের মর্যাদার আসনে আসীন হতে পারতো। প্রাচীন মিসরের সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক। সমাজে নারীরা সম্পত্তির অধিকারসহ নানা রকম সুবিধা ভোগ করত। সমাজে এক স্ত্রী গ্রহণের রীতি চালু থাকলেও উপপত্নী গ্রহণের দৃষ্টান্তও পাওয়া যায়। তারপরও মিসরীয় সমাজে মেয়েরা উচ্চ সামাজিক মর্যাদা ভোগ করত। যেমন ফারাও প্রথম থুথমোসের মেয়ে হাটশিপুট (Hatsheput) বা হাটাসু (Hatasu) ১৫২০-১৪৮০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বিশ্বের প্রথম মহিলা শাসক হিসেবে মিসরের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মিসরের সমাজ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা- ১. ফারাও, রাজদরবারের গণ্যমান্য ব্যক্তি, পুরোহিত ও ভূস্বামীরা উচ্চশ্রেণি; ২. বণিক, সাহিত্যিক, কারিগর ও অন্য পেশাজীবীরা মধ্যমশ্রেণি এবং ৩. ভূমিদাস, সেবাদাস ও ক্রীতদাসরা নিম্নশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। সমাজে শিক্ষাগ্রহণ করার সুযোগ এবং বিদ্যালয়গুলো ছিল অবৈতনিক। অতএব বলা যায়, সর্বক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রভাব ও কর্মের দ্বারা মর্যাদা নির্ধারণ মিসরীয় সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তি স্থাপন করে। ঘ. মুশফিকের বর্ণনাকৃত জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। প্রাচীন মিশরীয়দের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছে ধর্মচেতনা। মিশরীয়দের ধারণা ছিল সূর্যদেবতা 'রে' বা 'আমন রে' এবং প্রাকৃতিক শক্তি, শস্য ও নীলনদের দেবতা 'ওসিরিস' মিলিতভাবে সমগ্র পৃথিবী পরিচালনা করেন। মিশরীয় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলায় ধর্মের প্রভাব স্পষ্ট। সাহিত্য ও দর্শন গড়ে উঠেছিল ধর্মের আলোকে। রাষ্ট্র শাসন করা হতো ধর্মের বিধিবিধান দিয়ে। ধর্মমন্দিরে গড়ে ওঠা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করত দেশের অর্থনীতি। মিসরীয় চিত্রকলা, স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তিকে প্রাচীন মিসরীয়রা দেবতা মেনে পূজা করত। তারা বিশ্বাস করত, প্রকৃতিকে দেবদেবীরাই নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে থাকেন। প্রাচীন মিসরীয়দের বিশ্বাস অনুসারে সূর্যের দেবতা 'রা' বা 'রে' দেব-দেবীদের রাজা। তিনি প্রধান দেবতা হিসেবে অন্য দেবতাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। একসময় 'রা' বা 'রে' নামটি রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়ায় 'আমন' বা 'আমন রে'-তে। 'রা' ছিলেন আলো ও জীবনের আধার। মিসরীয়দের আরও অনেক দেব-দেবী ছিল। এদের দুজন হলেন জীবন, মৃত্যু ও উর্বরতার দেবতা ওসিরিস এবং তার স্ত্রী আইসিস। প্রাচীন মিসরীয়রা সম্রাট বা ফারাওকে স্বার্গের প্রতিনিধি মনে করত এবং তাদের দেবতার মতোই সম্মান করত। মৃত্যুপরবর্তী জীবনে তাদের বিশ্বাস ছিল। মিসরীয়রা বিশ্বাস করত মৃত মানুষ কবরে গেলে তার দেহে আত্মা ফিরে আসে। পৃথিবীতে তারা যে পাপ বা পুণ্য করেছে, দেবতা ওসিরিসের সামনে সেগুলোর হিসাব হবে। এরপর পুণ্যবানকে সুখময় স্থানে এবং পাপীকে অন্ধকার ঘরে নিক্ষেপ করা হবে। সূর্যদেবতা 'রা' তীব্র রশ্মি দিয়ে পাপীর দেহকে ঝলসে দেবেন। তাই দেখা যায়, মিসরীয় সভ্যতার জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা প্রভাবিত ছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুশফিক একটি অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসীদের নিয়ে কথা বলছিল। সে বলছিল ঐ অঞ্চলের অধিবাসীরা ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত। তাদের রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় পুরোহিতদের প্রভাব ছিল খুবই বেশি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা পরিচালিত হতো। তাদের সামাজিক জীবনে শ্রেণিভেদ প্রথা বিদ্যমান ছিল। তথাপি বুদ্ধিমত্তা, কর্মতৎপরতা ও দক্ষতার গুণে ব্যক্তিবিশেষের সামাজিক মর্যাদা বদলে দিত। বিষয়টি মুশফিকের খুব পছন্দ হলো।

ক.

সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরকে কী বলা হয়?

খ.

হিব্রুদের দুটি সাহিত্যকর্মের নাম লিখ।

গ.

উদ্দীপকে নির্দেশিত জাতীয় সমাজব্যবস্থা তাদের শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা বিধান করেছে। বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

মুশফিকের বর্ণনাকৃত জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কী ধরনের চিন্তা-চেতনা পরিস্ফুট হয়ে ওঠে? আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?

‘আরব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও ...

অলিম্পিক খেলা প্রচলিত হয়েছিল কেন?

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে বোঝায়- i. অজ্ঞতার যুগ ii. বর্বরতার যুগ iii. অন্ধকার যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে বোঝায়— i. অজ্ঞতার যুগ ii. তমসার যুগ iii. অন্ধকারের যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল— 1. নারী ii. বংশ গৌৱৰ ii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের আরবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনটি?

আইয়ামে জাহিলিয়ায় কোন প্রথা ব্যাপক ছিল?

আইয়‍্যামে জাহেলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল- i. নারী ii. বংশ গৌরব iii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।