Facebook Pixel

মেরী একাদশ শ্রেণিতে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়েছে। সে বিষয় নির্বাচনের জন্য তার বড় বোন মিষ্টির পরামর্শ চায়। মেরীর কথা শুনে মিষ্টি বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন করবে, যে বিষয়ের রয়েছে নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিয়মকানুন।" মিষ্টির কথা শুনে তার ভাই মামুন বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন কর, যে বিষয় কর্মসম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং তা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়।" ক. অনুমান কাকে বলে? খ. 'যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য সত্যতা অর্জন করা'- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে মিষ্টি ও মামুনের বক্তব্য পঠিত বিষয়ের আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ যুক্তিবিদ্যা পরিচিতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কোনো জ্ঞাত বা জানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো অজ্ঞাত বা অজানা বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে। খ. যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য হলো সত্যের সন্ধান ও সত্য প্রতিষ্ঠা। এ সত্যের আবার দু'টি দিক আছে। আকারগত সত্যতা ও বস্তুগত সত্যতা। সত্যের আকারগত ও বস্তুগত উভয় দিকই যুক্তিবিদ্যার আলোচনার আওতাভুক্ত। যুক্তিবিদ্যার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তি বা অনুমানের সত্যতা বা যথার্থতা নির্ণয় করা, সেহেতু যুক্তিবিদ্যার কাজ যুক্তির আকারগত বা বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু অবরোহ অনুমানের সাহায্যে এ বস্তুগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার উপায় নেই। সেই কারণেই বস্তুগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আরোহ অনুমান বা আরোহ যুক্তিবিদ্যার অবতারণা করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, আরোহ যুক্তিবিদ্যায় অনুমান প্রক্রিয়ার বস্তুগত দিকটি বিশ্লেষণ করা হয়। যুক্তির আকারগত বা বস্তুগত সত্যতা নির্ধারণ করাই আরোহ যুক্তিবিদ্যার প্রধান উদ্দেশ্য। গ. উদ্দীপকের মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের বিষয়কে নির্দেশ করে। ব্যাখ্যা করা হলো- মিষ্টি যেভাবে বক্তব্য দিয়েছে, তার সাথে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিকের সাদৃশ্য রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা যুক্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞান। তাই যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো যুক্তি। যুক্তিবিদ্যাকে বিভিন্ন দিক থেকে সংজ্ঞায়িত করা হয়ে থাকে। যুক্তিবিদ্যার প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর মধ্যে বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক বিদ্যমান রয়েছে। অন্যান্য বিজ্ঞানের মতোই যুক্তিবিদ্যার নিজস্ব বিষয়বস্তু আছে এবং আকারগতভাবে যুক্তিবিদ্যা আর বিষয়বস্তুকে যথার্থই আলোচনা করতে পারে। বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যার নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তুকে সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করে এবং যুক্তিবিদ্যার এই আলোচনা সুসংবদ্ধ। বিজ্ঞান যে সাধারণ নীতি ও সূত্র প্রণয়ন করে যুক্তিবিদ্যাও তেমনি অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তির পার্থক্যকরণের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করে। তেমনি উদ্দীপকের মিষ্টি তার বক্তব্যে একটি বিষয়ের নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার পর্যাপ্ত নিয়মকানুনের উল্লেখ করেছে। তাই মিষ্টির বক্তব্যের মাধ্যমে বিজ্ঞান নির্দেশিত হয়েছে। আর যুক্তিবিদ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে মিষ্টির বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিক নির্দেশিত হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের মিষ্টির বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিক নির্দেশিত হয়েছে। আর মামুনের বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিক নির্দেশিত হয়েছে। নিচে আমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে কলা ও বিজ্ঞানের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো- যুক্তিবিদ্যার প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে এর মধ্যে বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু রয়েছে এবং আকারগতভাবে যুক্তিবিদ্যা নিজস্ব বিষয়বস্তুকে যথার্থই ব্যাখ্যা করতে পারে। বিজ্ঞানের মতো যুক্তিবিদ্যার আলোচনা পদ্ধতি সুশৃঙ্খল এবং সুসংবদ্ধ। বিজ্ঞান যেমন বিভিন্ন সাধারণ নীতি ও সূত্র প্রবর্তনের চেষ্টা করে, তেমনি যুক্তিবিদ্যাও অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তির পার্থক্যকরণের জন্য কিছু নিয়ম নির্ধারণ করে। তাই বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক বিদ্যমান থাকার কারণে যুক্তিবিদ্যাও একটি বিজ্ঞান। উদ্দীপকের মিষ্টি তার বক্তব্যে একটি বিষয়ের নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং পর্যাপ্ত নিয়মকানুনের উল্লেখ করেছে। তাই মিষ্টির বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার বিজ্ঞানের দিক নির্দেশিত হয়েছে। অপরদিকে, মামুন তার বক্তব্যে এমন একটি বিষয়ের কথা বলেছে যেটি কর্ম সম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়। মামুনের এ বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যার কলাবিদ্যার দিকের নির্দেশ পাওয়া যায়। যুক্তিবিদ্যা আকারগত বিজ্ঞান হিসেবে বৈধ যুক্তির কিছু নমুনা প্রদান করে। আবার অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তিকে পৃথক করার জন্য কিছু নিয়মকানুন শিক্ষা দেয়। যুক্তির এসব নমুনা ও নিয়মকানুন বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য। এদিক থেকে যুক্তিবিদ্যা একটি কলাবিদ্যা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মেরী একাদশ শ্রেণিতে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়েছে। সে বিষয় নির্বাচনের জন্য তার বড় বোন মিষ্টির পরামর্শ চায়। মেরীর কথা শুনে মিষ্টি বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন করবে, যে বিষয়ের রয়েছে নির্ধারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচ্য বিষয় এবং আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিয়মকানুন।" মিষ্টির কথা শুনে তার ভাই মামুন বলল, "তুমি এমন বিষয় নির্বাচন কর, যে বিষয় কর্মসম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দেয় এবং তা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হয়।"

ক.

অনুমান কাকে বলে?

খ.

'যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য সত্যতা অর্জন করা'- ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের মিষ্টির বক্তব্য যুক্তিবিদ্যার কোন বিষয়কে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে মিষ্টি ও মামুনের বক্তব্য পঠিত বিষয়ের আলোকে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।