(ক)
WTO এর পূর্ণরূপ হলো World Trade Organization।
(খ)
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে গঠন ও পরিচালনায় সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাকে ব্যবসায়ের সহায়ক সেবা বলে।
ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। এক্ষেত্রে একজন উদ্যোক্তার পক্ষে শুধু নিজের বুদ্ধিমত্তা বা সামর্থ্য দিয়ে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। তাই ব্যবসায়ের বিভিন্ন স্তরে যেমন: অর্থায়ন, বীমা, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং আইনি পরামর্শের জন্য অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতে হয়। এই সহযোগিতাই হলো ব্যবসায়ের সহায়ক সেবা, যা ব্যবসায়ের ঝুঁকি কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো এসএমই ফাউন্ডেশন (SME Foundation)।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে, মরিয়ম বেগম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত একটি অমুনাফাভোগী লিমিটেড কোম্পানি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যা নারী উদ্যোক্তাদের মূলধারার ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করে।
এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৭ সালের ৩০ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অমুনাফাভোগী সংগঠন। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও প্রসারে কাজ করা। এটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে আগ্রহী যুব ও মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের মূলধারার অর্থনীতির সাথে যুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যসমূহ এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি হলো এসএমই ফাউন্ডেশন।
(ঘ)
মরিয়ম বেগম যে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, অর্থাৎ এসএমই ফাউন্ডেশন নারীর ক্ষমতায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিচে এর ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
প্রথমত, দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: এসএমই ফাউন্ডেশন নারীদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করে। উদ্দীপকের মরিয়ম বেগমের মতো সাধারণ গৃহিণীরা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারিগরি ও ব্যবসায়িক জ্ঞান অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
দ্বিতীয়ত, আর্থিক সহায়তা: এই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্রঋণ ও বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের মূলধন সরবরাহ করে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, মূলধারার ব্যবসায় সম্পৃক্তকরণ: সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের মূলধারার ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ হয়, যা তাদের আয়ের উৎস নিশ্চিত করে।
চতুর্থত, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি: যখন একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হন, তখন পরিবার ও সমাজে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
উপসংহারে বলা যায়, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। এসএমই ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করছে। উদ্দীপকের মরিয়ম বেগমও এই প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন, যা তাঁর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।