ক.
গ্রামীণ সমাজসেবা কর্মসূচি চালু হয় ১৯৭৪ সালে।
খ.
ইংল্যান্ডকে সমাজকর্ম শিক্ষার সূতিকাগার বলা হয়। কেননা আধুনিক সমাজকর্মের বীজ রোপিত হয় ইংল্যান্ডে। বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডে সমাজকর্মমূলক ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়। মধ্যযুগে গির্জার মাধ্যমে ইংল্যান্ডে গরিব ও পঙ্গুদের সেবাদান করা হতো। এ সেবাদান ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে সরকারি সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। এর ফলশ্রুতিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়। পেশার বিবর্তন প্রক্রিয়ায় এ শিক্ষার প্রসার ঘটে। তাই ইংল্যান্ডকে সমাজকর্ম শিক্ষার সুতিকাগার বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে মারিয়ার দেশটি তথা আমার পঠিত বাংলাদেশের সমাজকর্ম শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছে।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের ফলে স্থানান্তরিত অনেক শরণার্থী এদেশে প্রবেশ করে। এজন্য সদ্য স্বাধীন পাকিস্তানের এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাছাড়া পুরানো সমস্যার সাথে আরও নতুন নতুন সমস্যা যুক্ত হতে থাকে এবং সমাজে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। ফলশ্রুতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। ১৯৫১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এ সংকটজনিত অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের কাছে পরামর্শ ও সাহায্যের আবেদন জানায়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৫২ সালে জাতিসংঘের কার্যকরি সাহায্য কর্মসূচির (Technical Assistance Programme) আওতায় ড. জেমস ডাম্পসন- এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞ দল এদেশে আসে। তারা তৎকালীন বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও সমস্যা সম্পর্কে জরিপ ও পর্যালোচনার পর এদেশে পেশাদার সমাজকর্ম এবং এ সংক্রান্ত শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রবর্তনের সুপারিশ করে। ১৯৫৩ সালে ঢাকায় সর্বপ্রথম তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে নয় মাসব্যাপী কোর্স বর্ধমান হাউসে চালু হয়। যার ধারাবাহিকতা জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ড. জে মুর শিক্ষার জন্য স্থায়ী কলেজের সুপারিশ করলে ১৯৫৮-৫৯ শিক্ষাবর্ষে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথমে মাস্টার্স, পরবর্তীতে অনার্স চালু হয়। ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে সমাজকল্যাণ বিষয়ে পাঠ শুরু হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মারিয়ার দেশটি বাংলাদেশের সমাজকর্ম শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ফারিয়ার ইঙ্গিতকৃত দেশটি জাপান; বর্তমানে যেখানে সমাজকর্ম শিক্ষার যথেষ্ট প্রসার ঘটেছে।
জাপানে আধুনিক সমাজকর্ম শিক্ষার সূত্রপাত ১৯২০ সালে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন করে তোলে। এ অবস্থা হতে উত্তরণে জাপানে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উপলব্ধি হয়। এ প্রেক্ষিতে আমেরিকার সরকার জাপানে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রসারে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে। ফলে জাপানের সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থায় আমেরিকার সমাজকর্ম শিক্ষানীতি প্রয়োগ করা হয়। ১৯৫০ সালে জাপানের কিয়োটো (Kyoto)-তে অবস্থিত Doshisha University-তে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম শিক্ষায় মাস্টার্স (MSW) কোর্স প্রবর্তন করা হয়। সমাজকর্ম শিক্ষা ও পেশার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে জাপান সরকার ১৯৮৭ সালে স্টেট সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার আওতায় সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী সমাজকর্মীদের স্বীকৃতি হিসেবে পেশাগত সার্টিফিকেট প্রদান করে। বর্তমানে জাপানে সমাজকর্মের ওপর 'Tokyo University of Social Welfare' নামে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী পেশাদার সমাজকর্মীর সার্টিফিকেট নিয়ে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে। এছাড়া রিউকোকু বিশ্ববিদ্যালয়, কিউটো বিশ্ববিদ্যালয়, রিশো বিশ্ববিদ্যালয়, হিরোশিমা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, নাগাসাকি ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠান । জাপানের সমাজকর্ম পেশার মান বজায় রাখার জন্য ১৯৫৫ সালে Japanese Association of Schools of Social Work (JASSW) গঠন করা হয়। এ সংস্থা ২০০৯ সালে ‘সমাজকর্ম শিক্ষার বিশ্বমান এবং সমাজকর্ম পেশার প্রশিক্ষণ বিষয়ে একটি প্রকাশনা বের করেছে, যা পরে ইংরেজি, ফ্রেঞ্জ ও স্প্যানিশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০১০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জাপানে ১,২২,৩৮২ জন অনুমোদিত সমাজকর্মী এবং ৪৩,৪৭২ জন সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত মনোচিকিৎসা সমাজকর্মী ছিলেন। যদিও জাপানে সমাজকর্ম শিক্ষার মান যথেষ্ট উন্নত; তথাপি সেখানে সমাজকর্ম পেশা হিসেবে স্বীকৃত নয়। আশা করা যায়, অদূর ভবিষ্যতে জাপানে সমাজকর্ম একটি পরিপূর্ণ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে।