Facebook Pixel

মায়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ও সামরিক জান্তা সরকার ' নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায় । শত শত নারী - পুরুষ প্রাণের ভয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলে। বিশ্বের অনেক দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ৷ ক. মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন ? খ. মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. “ মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো ”— উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহিঃবিশ্ব

উৎস: Board Exam Question RB 2018

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। খ. ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক সহানুভূতি প্রদর্শন করে। ব্রিটেনের বিবিসি মুক্তিযুদ্ধের খবর নিয়মিত প্রচার করত এবং পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ তুলে ধরত। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণকারী : জর্জ হ্যারিসন কনসার্ট ফর বাংলাদেশ ' আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখে। তাছাড়া মুজিবনগর সরকারের বহির্বিশ্বে পরিচালিত সকল কার্যক্রম কেন্দ্রস্থল হিসেবে লন্ডন শহরকে ব্যবহার করে। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ব্রিটেন বিভিন্নভাবে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ভূমিকা রাখে। গ. উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থীর আশ্রয় নেওয়া এবং ভারত সরকারের অকৃত্রিম সহযোগিতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী নয় মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যে নারকীয় -- গণহত্যা লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায় , ভারত তা বিশ্ববাসীর নিকট সার্থকভাবে তুলে ধরে। এর ফলে বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়। লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় , মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য , বস্ত্র , চিকিৎসা , অস্ত্র সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। ভারত ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী ‘ যৌথ 'ক মান্ড গড়ে তোলে। যৌথ বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের ফলে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনাসহ নিঃশর্তে যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারান। উদ্দীপকে বাংলাদেশ যেমন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে , তেমনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যারা প্রাণ ভয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে ভারতও তাদের আশ্রয় , খাদ্য ও চিকিৎসাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে । ঘ. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো। উক্তিটি যথার্থ । কেননা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় , খাদ্য ও বস্ত্ৰ সহায়তা এবং শেষ পর্যায়ে সামরিক বাহিনী সরবরাহ করে সাহায্য করে। ভারতের জনগণ স্বেচ্ছায় শরণার্থী কর প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করে । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন , বর্তমান রাশিয়া। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা , অগ্নিসংযোগ , নারী ধর্ষণসহ যাবতীয় মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান তিনি ইয়াহিয়াকে জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা , প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টির সহায়তা করে। জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ ভেটো ' ( বিরোধিতা করা ) প্রদান করে তা বাতিল করে দেয় কিউবা , যুগোশ্লাভিয়া , পোল্যান্ড , হাঙ্গেরি , বুলগেরিয়া , চেকোস্লোভাকিয়া , পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়। এভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর সহায়তার ফলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন অতি দ্রুতই বাস্তবে পরিণত হয় । নচেৎ তা অনেক বেশি বিলম্বিত হতো তা নির্দ্বিধায় বলা যায় ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2018)

মায়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ও সামরিক জান্তা সরকার 'নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায় । শত শত নারী-পুরুষ প্রাণের ভয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মানবিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলে। বিশ্বের অনেক দেশ ও বিভিন্ন সংস্থা তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ৷

ক.

মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

খ.

মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটেনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

“মুক্তিযুদ্ধে মিত্রদেশগুলো সহায়তা না করলে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতো”—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ICEC আন্তর্জাতিক সংস্থা যার উদ্দেশ্য হলো- i. শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ ii.অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীদের মাঝে খাবার ও চিকিৎসা ...

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?

সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবহরে মোট কতটি যুদ্ধজাহাজ ছিল?

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাওঃ 'ক' দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এক বিরূপ মন্...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশের ঔপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকাম...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকা...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।