ক.
বিবাহ হলো প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের মধ্যে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন।
খ.
মৃত স্বামীর যেকোনো ছোট ভাইয়ের সাথে বিধবা মহিলার বিবাহকে লেভিরেট বিবাহ রীতি বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এ রীতি অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার বিধবা স্ত্রী মৃত স্বামীর যেকোনো ভাইকে বিবাহ করে। প্রথাটি যেন ভ্রাতৃবৎ বহু স্বামী প্রথার কথা মনে করিয়ে দেয়। কেননা এতে একই মহিলার এমন স্বামীদ্বয়ের কথা বলা হচ্ছে যারা পরস্পর ভাই। পক্ষান্তরে, কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে সে তার মৃত স্ত্রীর যেকোনো বোনকে বিবাহ করবে এমন রীতিই হচ্ছে সরোরেট। প্রথাটি যেন সরোরাল পলিজিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। কেননা ব্যক্তিটি স্ত্রীর বোনকে বিবাহের সুযোগ পাচ্ছে। অর্থাৎ লেভিরেট এবং সরোরেট পদ দুটি যথাক্রমে মৃত স্বামীর ভাই এবং মৃত স্ত্রীর বোনকে বিবাহ করার রীতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
গ.
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি হলো পরিবার। পরিবার বহুমুখী কার্যাবলি সম্পাদন করে।
পরিবার হলো একটি সামাজিক দল, যা সাধারণত রক্ত সম্পর্কিত বন্ধনে আবদ্ধ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এবং সদস্যরা সুখে-দুঃখে সকলে একসাথে মিলেমিশে থাকে। পরিবার হলো সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম। এবং আদি সংগঠন। উদ্দীপকেও অনুরূপ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে যা পরিবারকেই নির্দেশ করে।
পরিবারের অনেকগুলো মৌলিক কার্যাবলি রয়েছে। যেমন-পরিবারের মাধ্যমে মানবজাতি স্থায়িত্ব লাভ এবং বংশ বৃদ্ধি করছে। এটি পরিবারের জৈবিক কাজ। আবার পরিবার যেমন প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রস্থল তেমনি পরিবার থেকে এর সদস্যরা ধর্মীয় শিক্ষাও লাভকরে থাকে, যা পরিবারের শিক্ষামূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া পরিবারেই একটি মনস্তাত্ত্বিক ভূমিকা রয়েছে। পরিবারই একমাত্র মানসিক যন্ত্রণা নিবারণের কেন্দ্রস্থল। পরিবারের সদস্যদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। এটি পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক কাজ। আবার পরিবার কতকগুলো রাজনৈতিক কাজও সম্পাদন করে থাকে। পরিবারের অন্যতম কাজ হলো সন্তান-সন্ততিদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা। আবার পরিবার থেকেই সামাজিকীকরণ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা যায়, যা পরিবারের সামাজিকীকরণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া পরিবার চিত্তবিনোদনমূলক, রক্ষণাবেক্ষণসহ বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম।
পরিবার সমাজজীবনের প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবার সন্তান-সন্ততির জন্মদান ও লালন-পালনের মাধ্যমে সমাজজীবনে স্থায়িত্ব বজায় রাখে। যা সমাজজীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজের জনগণ পরিবারের মাধ্যমেই জীবনের প্রাথমিক শিক্ষালাভকরে। ব্যক্তিজীবনে এ শিক্ষাই ব্যক্তিকে পরবর্তী জীবনে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। পরিবার হলো সামাজিকীকরণের প্রধান ধাপ। পরিবারই ব্যক্তিকে সামাজিকীকরণ শিক্ষা দেয় এবং ব্যক্তিজীবনে স্নেহ, ভালোবাসা ও পরস্পরের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করতে শেখায়।
পরিবার তার সদস্যদেরকে সুখী করার মাধ্যমে সমাজকেও আমোদপ্রদ করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবার ব্যক্তিকে সমাজে বৈধ পরিচয় প্রদানে সহায়তা করে। যা ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে বড় পরিচয়। ব্যক্তি তার এ পরিচয় বলে সমাজ ও রাষ্ট্রে বৈধ নাগরিকের মর্যাদা পায়। এছাড়া পরিবারের মাধ্যমে ব্যক্তি সামাজিক বিভিন্ন রীতিনীতির সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং সমাজজীবনে সেই অনুযায়ী চলাচল করতে উৎসাহী হয়। পরিবারের মাধ্যমেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত আদর্শ গড়ে ওঠে এবং ব্যক্তি তার আদর্শ দ্বারা সমাজ জীবনে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
সমাজে কোনো ব্যক্তিই পরিবারের সদস্য ছাড়া সঠিকভাবে জীবনযাপন পরিচালনা করতে পারে না। তাই ব্যক্তির সমাজজীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় জীবনেও পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম।