ক.
যে যুক্তিবাক্য বা যুক্তিবাক্যসমূহের উপর ভিত্তি করে যুক্তির সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে আশ্রয়বাক্য বলে।
খ.
সহানুমানে চারটি পদের ব্যবহারজনিত ভ্রান্তিকে চতুষ্পদী অনুপপত্তি (Fallacy of Four Terms) বলে।
একটি সহানুমানে তিনটি পদ থাকে এবং প্রতিটি পদ দুই বার করে ব্যবহৃত হয়। সহানুমানে কোনোভাবেই তিনটির অধিক পদ ব্যবহার করা যায় না। যদি কোনো কারণে সহানুমানে তিনটির অধিক পদ ব্যবহার করা হয় তাহলে সিদ্ধান্তটি ত্রুটিপূর্ণ হয়। সহানুমানের সিদ্ধান্তের এই ত্রুটিকে চতুষ্পদী অনুপপত্তি (Fallacy of Four Terms) বলে
গ.
উদ্দীপকে পদ্মা সেতুর সাথে সহানুমানের মধ্যপদের মিল রয়েছে।
সহানুমানের দুইটি আশ্রয়বাক্য মধ্যপদের মধ্যস্থতার ফলে পরম্পর সম্পর্কযুক্ত হয়। প্রথম অবস্থায় প্রধান আশ্রয়বাক্য ও অপ্রধান আশ্রবাক্যের মধ্যে কোনো সম্বন্ধ থাকে না। তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকে। অর্থাৎ একে অপরের সাথে পুরোপুরি সম্পর্কহীন অবস্থায় থাকে। আশ্রয়বাক্য দুটোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সম্পর্ক স্থাপন করে মধ্যপদ। প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে মধ্যপদের সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। আবার অপ্রধান আশ্রয়বাক্যেও অপ্রধান পদের সাথে মধ্যপদের সম্বন্ধ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সম্পর্কের ভিত্তিতেই আশ্রয়বাক্য দুটি থেকে সিদ্ধান্ত অপরিহার্যরূপে অনুমিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরিতপুরের জাজিরাকে যুক্তকারী পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। সেতু চালু হওয়ার আগে মাওয়ার সাথে জাজিরার কোনো সংযোগ ছিল না। সেতুর মাধ্যমে উভয় প্রান্ত যুক্ত হয়। যা সহানুমানের মধ্যপদের মাধ্যমে উভয় আশ্রয়বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, সহানুমানে মধ্যপদ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, শরিয়তপুরের জাজিরা ও পদ্মা সেতুর সাথে পাঠ্যপুস্তকের সহানুমানের প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদের সাদৃশ্য রয়েছে।
সহানুমানে তিনটি পদ থাকে। প্রত্যেকটি পদ আবার দুই বার করে ব্যবহৃত হয়। পদগুলো হলো- ১. প্রধান পদ, ২. অপ্রধান পদ ও ৩. মধ্যপদ। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রধান পদ বলে। যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে অপ্রধান পদ বলে। আর যে পদ সহানুমানের উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে। যেমন-
A- সকল মানুষ হয় মরণশীল — প্রধান আশ্রয়বাক্য
A-সকল বৈজ্ঞানিক হয় মানুষ — অপ্রধান আশ্রয়বাক্য
A-সকল বৈজ্ঞানিক হয় মরণশীল — সিদ্ধান্ত
উল্লেখিত উদাহরণে 'মরণশীল' হলো প্রধান পদ। কেননা, পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। 'বৈজ্ঞানিক' হলো অপ্রধান পদ। কারণ এ পদটি সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'মানুষ' পদটি হলো মধ্যপদ। কেননা, এ পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে আছে কিন্তু সিদ্ধান্তে নেই। উদ্দীপকে অনুরূপ শরিয়তপুরের জাজিরাকে প্রধান পদ, মুন্সিগঞ্জের মাওয়াকে অপ্রধান পদ ও পদ্মা সেতুকে মধ্যপদ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সহানুমানে মধ্যপদের মাধ্যমে যেমন প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তেমনি পদ্মা সেতুর মাধ্যমে জাজিরার সাথে মাওয়ার সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে।