Facebook Pixel

মুন্নার মামা আব্দুল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরি করেন। তিনি ছুটিতে দেশে আসলে মুন্না তার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। এ সময় ব্রিটিশদের সাথে আফ্রিকানদের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম স্কেইনার 'সাউথ আফ্রিকান পার্টি' নামে ১৮৮৫ সালে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এ দলটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আফ্রিকানদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের নিকট উপস্থাপন করা। ক. 'মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন' কত সালে প্রণয়ন করা হয়? খ. বঙ্গভঙ্গ রদ থেকে মুসলমানরা কী শিক্ষা নেয়? গ. সাউথ আফ্রিকান পার্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো। ঘ. ভারতীয় উপমহাদেশে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটি কি মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পেরেছিল? মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন' ১৯০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়। খ. বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার খবর শুনে পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা হতাশ হয়ে পড়ে। পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামের নতুন প্রদেশ গঠিত হওয়ায় তাদের মধ্যে যে প্রাণচাঞ্চল্য, উৎসাহ ও জাগরণ দেখা গিয়েছিল, বঙ্গভঙ্গ রদ তা স্তব্ধ করে দেয়। মুসলিমরা বুঝতে পারে যে ব্রিটিশ সরকারের উপর তাঁদের আস্থা স্থাপন অনর্থক ও আকর্ষকর। এ থেকে তারা এটাও শিক্ষা নেয় যে, উপমহাদেশের হিন্দুরা স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নিজেদের ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্ব দেয় বেশি। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে তাই উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও বিনষ্ট হয়। গ. উদ্দীপকে সাউথ আফ্রিকান পার্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক দলটি হলো 'সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস'। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ আমলা অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউমের দিক নির্দেশনায় ১৮৮৫ সালে এই রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। ইংরেজ সরকারের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ ভারতবাসীকে প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় উচ্চশিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন এবং স্বায়ত্তশাসন অর্জন করা। ১৮৭৬ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় ভারতীয়দের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে 'ভারত সভা' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৮৭৮ সালে লর্ড লিটনের শাসনামলে দেশীয় সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যে 'ভার্নাক্যুলার প্রেস এ্যাক্ট', 'লাইসেন্স এ্যাক্ট' প্রভৃতি কলা- কানুন পাস হয়। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনগণ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৮৮৩ সালে 'ইলবার্ট বিল' পাস হলে ব্রিটিশ শাসকদের প্রতি ভারতীয় জনগণের অসন্তোষ ও ঘৃণা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। দমননীতি প্রয়োগের পাশাপাশি ভারতীয় জনগণের এ গণবিক্ষোভকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে পরিচালনা ও দমনের জন্য সুচতুর ব্রিটিশ সরকার ভিন্নপথ অবলম্বন করে। এ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম নামক একজন প্রাক্তন আমলা বড়লাট লর্ড ডাফরিনকে ভারতীয় জনগণের আসন্ন গণবিদ্রোহ থেকে বাঁচার জন্য একটি ব্রিটিশ অনুগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরামর্শ প্রদান করেন। এভাবে হিউমের উদ্যোগে এবং লর্ড ডাফরিনের সমর্থনে ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বাই শহরে 'সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস' নামক একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয় । ঘ. সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলটি উপমহাদেশের মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। কংগ্রেস নেতারা প্রথমে ভারতবর্ষের ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির কথা বললেও সেখানে মুসলিমদের দাবি ও গুরুত্ব ছিল অনুপস্থিত। নেতারা মুসলমানদের কথা না ভেবে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ ও মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেস নেতাদের অধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান শুরু করে। ফলে তারা ব্রিটিশদের প্রতি আরো আনুগত্য প্রকাশ করে। কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত ভারতীয় এবং ব্রিটিশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেল যে, ভারতীয়দের মধ্যে শুধু হিন্দুরাই একতরফাভাবে ব্রিটিশদের সুনজরে থেকে নিজেদের লাভবান করার সুযোগ পেল, আর মুসলমানরা বয়ে গেল অবহেলিত। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের মাধ্যমে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হলে কংগ্রেসের ব্রিটিশ ঘেঁষা নীতির কারণে উপমহাদেশে স্বাধীনতা আসে ১৯৪৭ সালে। কংগ্রেসের ব্রিটিশপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য বলা যায় মুসলমানেরা এক ঘরে হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের সাথে তাঁদের দূরত্ব বাড়তেই থাকে। এই দূরত্বের কারণে তারা শাসকশ্রেণির কাছ থেকে নিজেদের অধিকার ও দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়ে। সবশেষে বলা যায় যে, ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বস্তরের জনগণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও, কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার্থে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এক্ষেত্রে বলা যায়, কংগ্রেস মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

মুন্নার মামা আব্দুল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকায় চাকরি করেন। তিনি ছুটিতে দেশে আসলে মুন্না তার কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে জানতে চায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। এ সময় ব্রিটিশদের সাথে আফ্রিকানদের দ্বন্দ্ব লেগেই থাকত। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম স্কেইনার 'সাউথ আফ্রিকান পার্টি' নামে ১৮৮৫ সালে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এ দলটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আফ্রিকানদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সরকারের নিকট উপস্থাপন করা।

ক.

'মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন' কত সালে প্রণয়ন করা হয়?

খ.

বঙ্গভঙ্গ রদ থেকে মুসলমানরা কী শিক্ষা নেয়?

গ.

সাউথ আফ্রিকান পার্টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো। 

ঘ.

ভারতীয় উপমহাদেশে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলটি কি মুসলমানদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পেরেছিল? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।