ক.
'NATO' এর পূর্ণরূপ হলো- North Atlantic Treaty Organization.
খ.
মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়। আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।
গ.
উদ্দীপকে সোভিয়েত রাষ্ট্রের বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি। ব্রেজনেভের শাসনামল থেকেই রাশিয়ার কমিউনিজম নানা কারণে পতনের দিকে দাবিত হয়। মূলত চারটি প্রজাতন্ত্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের উৎপত্তি হলেও বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এর প্রজাতন্ত্রের সংখ্যা ছিল ১৫টি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ শুরু হলে তা প্রতিহত করার জন্য গর্বাচেভ উদার ও খোলামেলা নীতিসহ বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করলেও তা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন রোধ করতে পারেনি। ফলে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত অন্তর্ভুক্ত প্রজাতন্তগুলো বিদ্রোহ করে স্বাধীন হলে সোভিয়েত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানিকদী একটি বৃহৎ পৌরসভা যার অধীনে অনেকগুলে ওয়ার্ড রয়েছে। বিভিন্ন কারণে ওয়ার্ডগুলো পৌরসভা থেকে বিচ্ছন্ন হতে চাইলে বর্তমান মেয়র বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তারপরও কাঙ্ক্ষিত আর্থ-সামাজিক কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ওয়ার্ডগুলো স্বাধীনতা চায় এবং সবশেষ মানিকদি পৌরসভা ভেঙে পড়ে। যা সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উল্লিখিত রাষ্ট্রের বিলুপ্তি তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ফলে বিশ্ব-রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্বব্যবস্থার পুরো চিত্র পাল্টে যায় এবং এ প্রক্রিয়া এখনও ক্রিয়াশীল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, 'সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল বিশ শতকে বিশ্বের ভূ- রাজনৈতিক দুর্যোগ।' এর ফলে রাশিয়ার প্রায় এক কোটি মানুষ বিভিন্ন সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়। রাশিয়ান সমাজে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। এর প্রভাবে গণদারিদ্রদ্র্য স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে বিশ্ব দ্বি- মেরু বিশিষ্ট রাজনৈতিক পরাশক্তি বলয়ের বিভক্তি থেকে একক পরাশক্তি বলয়ের রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো আদর্শ, কোনো দেশ বা সংস্থার অস্তিত্ব আর থাকে না।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে পূর্ব ইউরোপে শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় এবং NATO মধ্যপ্রাচ্য সৈন্য ও সরঞ্জাম পুনঃনিয়োগের সুযোগ পায়। তাছাড়া সোভিয়েতের পতনে চীন অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এছাড়া সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব ঘটার ফলে বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে বৈদেশিক নীতি পরিবর্তিত হয়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব রাজনীতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রভাব অপরিসীম।