ক.
গ্রাফাইট হচ্ছে নরম, ধূসর বা কালো বর্ণ, কার্বনজাতীয় এক ধরনের পদার্থ।
খ.
লোহার পরিমাণ ও মান অনুযায়ী পৃথিবীর লৌহ আকরিককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
i) ম্যাগনেটাইট $\left(\mathrm{Fe}_3 \mathrm{O}_4\right)$
(ii) হেমাটাইট $\left(\mathrm{Fe}_2 \mathrm{O}_3\right)$
(iii) লিমোনাইট $\left(2 \mathrm{Fe}_2 \mathrm{O}_3 \mathrm{H}_2 \mathrm{O}\right)$
(iv) সিডেরাইট $\left(\mathrm{FeCO}_3\right)$
গ.
উদ্দীপকে মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
পেট্রোলিয়াম বা জ্বালানি তেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংজ্ঞায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে রাশিয়া কর্তৃক তৈলকূপ খননের সময় থেকেই যে তেলের এই গুরুত্ব জ্বালানি হিসেবে আরম্ভ হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভৌগোলিক পরিপ্রেক্ষিতে, মধ্যপ্রাচ্য ভূমধ্যসাগর, পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগরের মাঝখানে অবস্থিত দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মের মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংযোগের কারণে অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের তেল সম্পদ এতই বিস্তৃত যে, বিশ্বের তেল উৎপাদনের শতকরা ৬০ ভাগের বেশি তেল এই দেশসমূহে আহরিত হয়। তেল ক্ষেত্রসমূহের বেশিরভাগ পাইপলাইনই পারস্য উপসাগর ও ভূমধ্যসাগর মধ্যস্থিত এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। উপলব্ধি এবং বাস্তবতার নিরিখেই বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং এই গুরুত্বের ওপর নির্ভর করেই আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচীয় নীতি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উপসাগরীয় ৬টি আরব দেশে বিশ্বের মোট ৬০ ভাগের বেশি তেল মজুত আছে। তেল বাণিজ্যের মূল শক্তি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশ এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ করছে।
এ অঞ্চলে বিশ্বের জ্বালানি তেলের ৩৬ শতাংশ উৎপাদিত হয়। আর বিশ্বে যত তেল রপ্তানি হয় তার ৪৬ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকেই হয়। তাই উক্ত অঞ্চলের খনিজ সম্পদের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ.
উদ্দীপকের বর্ণিত খনিজটি হলো খনিজ তেল। উক্ত খনিজ তেলের বিশ্ব উৎপাদন ও বণ্টন আলোচনা করা হলো-
পৃথিবীর খনিজ তেল উৎপাদক দেশের সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ২০১০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সর্বমোট প্রায় ৩৬৫ কোটি ২০ লক্ষ মেট্রিক টন খনিজ তেল উত্তোলিত হয়। খনিজ তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর মধ্যে রুশ ফেডারেশন বিশ্বে প্রথম, সৌদি আরব দ্বিতীয়, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়, চীন চতুর্থ, ইরান পঞ্চম এবং ভেনিজুয়োলা ৬ষ্ঠ। তবে বর্তমানে প্রথম ছয়টি দেশ হতে বিশ্বের ৪৯.৫৫% তেল উত্তোলিত হয়। খনিজ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলকে ৬টি প্রধান অঞ্চল বা বলয়ে ভাগ করা হয়েছে। যেমন- আমেরিকান তেল বলয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেল বলয়, ইউরোপীয় তেল বলয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেল বলয়, আফ্রিকার তেল বলয়, অস্ট্রেলিয়ার তেল বলয়। আমেরিকার তেল বলয়ভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের প্রায় ৩০ ভাগ উৎপাদন করে। এ অঞ্চলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস, ওকলাহোমা, আরাকান, উত্তর টেকসাস, মনটানা প্রভৃতি অঞ্চলে ২০১৮ অনুযায়ী দৈনিক ১৪০৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন হয়ে থাকে।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের অ্যাডমন্টন ও ক্যালগারি অঞ্চলে তেল উৎপাদন হয় দৈনিক ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল বলয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো সৌদিআরব, ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব' আমিরাত, কুয়েত উল্লেখযোগ্য। এখানে সর্বমোট ২৭.৯ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক তেল উত্তোলন হয়। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলো আকহিক, সাফানিয়া বেরী, আবহাদরিয়া, আবু সায়াফা উল্লেখযোগ্য। ইরাকের তেলক্ষেত্রগুলো মোসুলা, কিরকুক, খানাকিন, হাদিতা, খুররম শাহ ও বসরায় অবস্থিত।
ইরানের তেলক্ষেত্রগুলো মসজিদ-ই-সোলায়মান, হাফতখেল, আগাজারি, লালি আবাদান, হামাদান অঞ্চলে অবস্থিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্রগুলো বাব, কারণজাফুর, দুবায়াহ, যুবারাজ, জাকুম, রাশিদ, মুবারক, সালেহ অঞ্চলে অবস্থিত।
কুয়েতের মাগওয়া ও আহমাদিতেও তেলখনি রয়েছে।
ইউরোপীয় তেলবলয়গুলো রাশিয়া, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যে অবস্থিত। এ অঞ্চলের রাশিয়াতে ১৩.২ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক তেল উত্তোলন হয়ে থাকে। এখানে বাকশিরা, তাতার ভলগোগ্রাদ, অস্ত্রখান, ওরেনবার্গ প্রভৃতি অঞ্চলে তেল পাওয়া যায়।
এছাড়া নরওয়ের তেলক্ষেত্রগুলো ওসেবার্গ, এড্ডা অঞ্চলে অবস্থিত।
যুক্তরাজ্যের তেলক্ষেত্রগুলো ডানকান, ফরটিজ, খেলসা, ব্লুস, ব্রেন্ট প্রভৃতি তেলখনি থেকেও তেল উত্তোলন করা হয়।
আফ্রিকার নাইজেরিয়া অঞ্চলের নাইজার নদীর বদ্বীপ এলাকায় অধিকাংশ তেল খনিগুলো অবস্থিত।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চীন, ইন্দোনেশিয়ায় তেল উত্তোলন হয় ২৪.৮১ কোটি মেট্রিক টন। চীনের কারমাই লেঙ্গু ও কানসু প্রদেশের ইউমেন এবং নাচুং প্রভৃতি অঞ্চল খনিজ তেলে সমৃদ্ধ।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা, জাভা, কালিমাস্তান দ্বীপে প্রচুর তেল পাওয়া যায়।
সুতরাং বলা যায় যে, বিশ্বব্যাপী উপরোল্লিখিত খনিজ তেল বলয়গুলোতে উত্তোলিত হয়ে থাকে।