ক.
মেরি রিচমন্ডকে ব্যক্তি সমাজকর্মের অগ্রদূত বলা হয়।
খ.
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ ও লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে যেসব পদ্ধতি, সেগুলোকে সহায়ক পদ্ধতি বলা হয়।
সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো- সমাজকর্ম প্রশাসন, সমাজকর্ম গবেষণা ও সামাজিক কার্যক্রম। সমাজকর্ম প্রশাসন হলো এমন একটি কৌশল প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সামাজিক নীতিকে সামাজিক সেবায় রূপ দেওয়া হয়। সমাজকর্ম গবেষণা হলো বিজ্ঞানভিত্তিক অনুসন্ধান, যা সমাজকর্মের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে যথার্থ ও সুসংহত করে তোলে। আর সামাজিক কার্যক্রম হলো সংগঠিত দলীয় প্রচেষ্টা, যার মাধ্যমে সামাজিক প্রশাসন ও আইনকে প্রভাবিত করে সামাজিক সমস্যার সমাধান, সামাজিক নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করা হয়।
গ.
উদ্দীপকে সমাজকর্মী মিঠুকে সংশোধনে সমাজকর্মের ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
ব্যক্তি সমাজকর্ম সমাজের ক্ষুদ্রতম একক ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করে। উদ্দীপকে মিঠু যেহেতু একজন মাত্র ব্যক্তি, তাই তার সমস্যা সমাধানে ২য় ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ব্যবহার করে এটাই ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি। ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি, যা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সুস্ত ও প্রতিভা, দক্ষতা ও ক্ষমতার বিকাশ সাধন করে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিকে এমনভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে যাতে ব্যক্তি নিজেই নিজের সমস্যার কার্যকর মোকাবিলা করে সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে সামাজিক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকের মিঠু মাদকাসক্ত। তাকে এ সমস্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে তার মধ্যের শক্তিকে জাগ্রত করার পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনয়নে কাজ করবে ব্যক্তি সমাজকর্ম।
তাই বলা যায়, মিঠুর মাদকাসক্তি সমস্যার সমাধানে নিরাময় কেন্দ্রে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।
ঘ.
উদ্দীপকে মিঠুর সমস্যা সমাধানে প্রয়োগকৃত ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির সুশৃঙ্খল সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া রয়েছে। নিচে তা আলোচন করা হলো-
১. মনোসামাজিক অনুধ্যান: মিঠুর মানসিক ও সামাজিক সমস্যার স্বরূপ নির্ণয়ের পাশাপাশি তার ইচ্ছা ও সামর্থ্য সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়াই হলো মনোসামাজিক অনুধ্যান।
২. সমস্যা নির্ণয়: মনোসামাজিক অনুধ্যানের ফলে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সমস্যা নির্ণয় করবে। মিঠুর ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির সমস্যার কারণ উদঘাটনের করে তার মৌলিক সমস্যা নির্ণয় করার জন্য গতিশীল সমস্যা নির্ণয় প্রক্রিয়া, চিকিৎসামূলক সমস্যা নির্ণয় প্রক্রিয়া এবং সমস্যার উৎপত্তি সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করবে।
৩. সমাধান ব্যবস্থা: সমস্যা নির্ণয়ের পর তার সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মিঠুর সমস্যা সমাধান করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মিঠুর মানসিক পরিবর্তনের পাশাপাশি তার পরিবেশের পরিবর্তন ঘটাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিবেশ বলতে তার বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে চারপাশকে বোঝায়।
৪. মূল্যায়ন: মিঠুর সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া তার সমস্যা কতটুকু সমাধান করতে পারল তা নির্ণয় করাই হলো মূল্যায়ন। এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মিঠুর সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।