ক.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়েছিল ১৯৫৬ সালে।
খ.
ছয় দফার অন্যতম দুটি দফা হলো— ১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সংবিধান হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং সরকার হবে পার্লামেন্টারি পদ্ধতির। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আইনসভা হবে সার্বভৌম। সংবিধানে জনগণের পূর্ণ মৌলিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষিত হবে। ২. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে কেন্দ্রের অধীনে কেবল দুটি বিষয় থাকবে— দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র। সরকারের অবশিষ্ট বিষয়গুলো প্রদেশসমূহের হাতে ন্যস্ত থাকবে।
গ.
উদ্দীপকে আলোচিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নির্মাণ করা হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই দেশটির রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষাকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ও তরুণসমাজ এ ঘোষণার প্রতিবাদ জানায় এবং তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারা পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের ঘোষণা দেয়। এ কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য শাসকগোষ্ঠী ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ঢাকায় ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি করলে শহিদ হন সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ আরো অনেকে। ফলে ভাষা আন্দোলন আরো বেগবান হয়। এ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে ঢাকায় নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার । উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মিতু তার পরিবারের সাথে ঢাকার বাইরে বসবাস করে। ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার দেখতে যাওয়া তার অনেক দিনের ইচ্ছে। যেহেতু কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল, সেহেতু বলা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারটি ভাষা আন্দোলনের ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্মাণ করা হয়েছিল।
ঘ.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে মিতু ভীষণ গর্বিত হয়েছিল — উদ্দীপকের শেষোক্ত এ লাইনটি ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্যকেই প্রতিফলিত করে।
ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয় । ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায় । ভাষা আন্দোলনকে ঘিরেই বাঙালি জাতি স্বাধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। এ আন্দোলনই বাঙালি জাতিকে সর্বপ্রথম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও স্বায়ত্তশাসনবিরোধী কার্যক্রমের প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনগণ এ আন্দোলনে অংশ নেয়। ভাষা আন্দোলন ছিল আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রদর্শক। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সাথে বাঙালি জাতির যে স্বাতন্ত্র্যবোধ পরিলক্ষিত হয়, তারই ফলাফল বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাই পরবর্তীকালে প্রতিটি গণআন্দোলনে প্রেরণা জোগায় এবং বাঙালির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথকে আরো সুগম করে। জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের দুঃশাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেয়। এরপর ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে 'বাংলাদেশ' নামক একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের।
পরিশেষে বলা যায়, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত হয়। এই চেতনাই অধিকার আদায়ের বিভিন্ন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করে। আর এ কারণেই মিতু কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে গর্ববোধ করে।