(ক)
তথ্য অধিকার বিষয়টি সর্বপ্রথম ১৭৬৬ সালে সুইডেনের পার্লামেন্টে আইনে পরিণত হয়।
(খ)
মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য বলতে কোনো একটি জাতির সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন চিন্তা, চেতনা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার অনুভূতিকে বোঝায়। এটি একটি মানসিক প্রক্রিয়া যা একটি জনসমষ্টিকে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের ভিত্তিতে এক সূত্রে আবদ্ধ করে এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।
(গ)
উদ্দীপকে মঞ্জুর রহমান একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সুষ্ঠু ভোট প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার কথা বলেছেন, যা নাগরিকের একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক কর্তব্য। তবে ভোটদান ছাড়াও একজন নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য পালন করতে পারে।
নাগরিকের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কর্তব্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য: নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হলো রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
২. আইন ও সংবিধান মেনে চলা: রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রচলিত আইন ও সংবিধান যথাযথভাবে মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের আবশ্যিক দায়িত্ব।
৩. কর প্রদান: দেশের প্রশাসন পরিচালনা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্তব্য।
৪. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা: সরকারি সম্পদ ও জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা নাগরিকের দায়িত্ব।
৫. সেবায় আত্মনিয়োগ: প্রয়োজনে দেশের সেবায় এবং জাতীয় সংকটের সময়ে আত্মনিয়োগ করা নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য।
সুতরাং, মঞ্জুর রহমানের উল্লিখিত ভোটদানের পাশাপাশি এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে গণ্য হন।
(ঘ)
উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইন "দুটোই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ", এই বক্তব্যের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। কারণ অধিকার ও কর্তব্য একে অপরের পরিপূরক এবং অবিচ্ছেদ্য।
অধিকার ও কর্তব্যের নিবিড় সম্পর্কের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত, অধিকার ও কর্তব্য সমাজবোধ থেকে উদ্ভূত। অধ্যাপক লাস্কির মতে, আমার নিরাপত্তার অধিকারের মধ্যেই অপরের ওপর আক্রমণ না করার কর্তব্য নিহিত আছে। অর্থাৎ, একজনের অধিকার ভোগ অন্যজনের কর্তব্য পালনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। যেমন, আমার বেঁচে থাকার অধিকার অন্যের আমার জীবন রক্ষা করার কর্তব্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
দ্বিতীয়ত, নাগরিকরা যখন রাষ্ট্রের কাছ থেকে সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করে, তখন বিনিময়ে তাদের রাষ্ট্রের প্রতি নির্দিষ্ট কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন, নাগরিক হিসেবে আমরা যখন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করি, তখন বিনিময়ে আইন মেনে চলা বা কর প্রদান করা আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয়ত, কর্তব্যহীন অধিকার স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেয় এবং অধিকারহীন কর্তব্য দাসত্বের শামিল। একটি আদর্শ রাষ্ট্রে অধিকার ও কর্তব্যের ভারসাম্য থাকা অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার দুটি ভিন্ন রূপ মাত্র। কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই অধিকার সুনিশ্চিত হয় এবং এই উভয়ের সমন্বয়েই একজন ব্যক্তি প্রকৃত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।