Facebook Pixel

মোজাম্বিক আফ্রিকার সর্বদক্ষিণের একটি দেশ। দেশটির পৃথিবীখ্যাত সমুদ্র সৈকত , আকর্ষণীয় প্রবাল দ্বীপ ও সুদৃশ্য ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। ঔপনিবেশিক শক্তি কর্তৃক গৃহীত শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক নীতির ফলে জনমনে এক সময় ধূমায়িত অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যার ফলে দেশটিতে দীর্ঘকালব্যাপী গেরিলা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। মোজাম্বিকের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন FERLIMO তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সপক্ষে সারাবিশ্বের কাছে সহযোগিতা কামনা করে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমমনা দেশগুলো এগিয়ে আসলেও একটি বৃহৎ শক্তি এর বিরোধিতা করে। মিত্র দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মোজাম্বিক ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করে। ক. 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা ' কেন প্রদান করা হয়? খ. মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অসামান্য '- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের মোজাম্বিকের মতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। ঘ. 'মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। '— মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালি ও বহিঃবিশ্ব

উৎস: Board Exam Question RB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী নাগরিকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ' বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা ' প্রদান করা হয়। খ. বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অসামান্য। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন করেন। কিছুদিন পর থেকে এটা মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পরিচালিত হতে থাকে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মুক্তিযুদ্ধের খবরাখবর বহির্বিশ্বে প্রচার করা হয়। সংবাদ , কথিকা , নাটক ও সংগীতের মাধ্যমে বাঙালি মুক্তিসেনাদের স্বাধীনতার স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করা হয়। দেশাত্মবোধক গান সম্প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধাদের , সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করা হয়। গ. উদ্দীপকের মোজাম্বিকের মতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দেশটির ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস আমেরিকার তখনকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও তার প্রশাসন পাকিস্তানের জন্য নৈতিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সামরিক সমর্থন যুগিয়েছিলো। নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কিছুই করার নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলেও ১০ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব পাকিস্তানের সৃষ্ট সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ এবং ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করার জন্য আহ্বান করেন। ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ উপমহাদেশের ভারত - পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। নিক্সন পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত সপ্তম নৌবহর ' কে বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন করেন। তাছাড়াও যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে জাতিসংঘে মার্কিন কূটনীতিও সক্রিয় থাকে । উদ্দীপকের মত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও একটি বৃহৎ শক্তি বিরোধিতা করে যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে নির্দেশ করে। তাই এটা স্পষ্ট আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঘ. মিত্র দেশগুলোর অর্থাৎ বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থানকারী দেশগুলোর সহযোগিতা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত এবং পরবর্তী সময়ের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে ভারত , সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এসব দেশের সরকার মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। তবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভারতের। ইংল্যান্ড ছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গঠনের মূলকেন্দ্র। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া , পশ্চিম জার্মানি , ফ্রান্স , ইতালি , জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে সাহায্য করে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। স্পেন , নেদারল্যান্ডস , ডেনমার্ক , নরওয়ে , সুইডেন , নিউজিল্যান্ড প্রভৃতি রাষ্ট্র বাংলাদেশের ' মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ব্যক্ত করে। সে সময় ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক শাসন চলছিল। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল সেদেশের অসংখ্য ছাত্র সামরিক বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে বাংলাদেশে গণহত্যার বিরুদ্ধে মিছিল করে। ইন্দোনেশিয়ার টেলিভিশন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি খন্দকার মোশতাক আহমেদের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে। এমনকি কিউবা , যুগোস্লাভিয়া , পোল্যান্ড , হাঙ্গেরি , বুলগেরিয়া , চেকোস্লোভাকিয়া , পূর্ব জার্মানি প্রভৃতি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানায়। মার্কিন প্রশাসনের বিরোধিতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ , প্রচার মাধ্যম , কংগ্রেসের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল I অতএব বলা যায় , বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2019)

মোজাম্বিক আফ্রিকার সর্বদক্ষিণের একটি দেশ। দেশটির পৃথিবীখ্যাত সমুদ্র সৈকত, আকর্ষণীয় প্রবাল দ্বীপ ও সুদৃশ্য ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। ঔপনিবেশিক শক্তি কর্তৃক গৃহীত শাসনতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক নীতির ফলে জনমনে এক সময় ধূমায়িত অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যার ফলে দেশটিতে দীর্ঘকালব্যাপী গেরিলা যুদ্ধের সূচনা ঘটে। মোজাম্বিকের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন FERLIMO তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের সপক্ষে সারাবিশ্বের কাছে সহযোগিতা কামনা করে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সমমনা দেশগুলো এগিয়ে আসলেও একটি বৃহৎ শক্তি এর বিরোধিতা করে। মিত্র দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় মোজাম্বিক ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান লাভ করে। 

ক.

'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' কেন প্রদান করা হয়?

খ.

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা ছিল অসামান্য'- ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের মোজাম্বিকের মতো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধেবিরোধিতাকারী বৃহৎ দেশটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। 

ঘ.

'মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল।'— মতামত দাও। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ICEC আন্তর্জাতিক সংস্থা যার উদ্দেশ্য হলো- i. শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ ii.অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীদের মাঝে খাবার ও চিকিৎসা ...

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন কে?

মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে কোন দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?

সোভিয়েত ইউনিয়নের নৌবহরে মোট কতটি যুদ্ধজাহাজ ছিল?

অনুচ্ছেদটি পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাওঃ 'ক' দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এক বিরূপ মন্...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আজকের আমেরিকা একসময় ব্রিটিশের ঔপনিবেশ ছিল। আঠারো শতকের শেষের দিকে আমেরিকানরা ব্রিটিশের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীন...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অন্ত সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাকাম...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌপথে আমেরিকার স্বাধীনতাকা...

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ফ্রান্স বিপ্লবীদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করে সাহায্য করে। তারা স্থল ও নৌ পথে আমেরিকার স্বাধীনতাক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।