Facebook Pixel

ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এই অবস্থার সুবিধা পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এদেশের জনগণ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। সমস্যা হচ্ছে, জাতীয় শক্তির দুর্বলতার কারণে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে অধিকাংশ ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ এক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে। ক. সার্ক কখন প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের সুবিধা আলোচনা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কী ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে? ঘ. আন্তর্জাতিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৯ঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সার্ক ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রধান সুবিধা হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এই ধরনের জোটের ফলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুল্ক হ্রাস পায়, যা সুলভ ও সাধারণ বাজার সৃষ্টিতে সাহায্য করে এবং নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটায়। এছাড়া যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জাতীয় শক্তির দুর্বলতা ও সংঘাতের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ 'স্বাধীন ও জোট নিরপেক্ষ' পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ নিজেকে কোনো সামরিক জোটের সাথে জড়াতে চায় না এবং সংবিধানে বর্ণিত 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়'-এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করে। উদ্দীপকের সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সাথে সমসার্বভৌমত্ব ও সমমর্যাদার নীতি অনুসরণ করে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ একটি 'শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান' নীতি গ্রহণ করতে পারে। এই নীতির ফলে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে যোগ না দিয়েও বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অভিভাবকতুল্য সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ, যা বিশ্বশান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। জাতিসংঘ তার শক্তিশালী অঙ্গ 'নিরাপত্তা পরিষদ'-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসা এবং শান্তিভঙ্গের হুমকি দূর করার জন্য কাজ করে। এটি বিরোধপূর্ণ এলাকায় আলাপ-আলোচনার পরিবেশ তৈরি করে এবং চরম পরিস্থিতিতে শান্তি বিপন্নকারী দেশের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ আরোপের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ বন্ধে ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় 'শান্তিরক্ষা বাহিনী' মোতায়েন করে থাকে, যেখানে বাংলাদেশ বর্তমানে সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষা, বর্ণবৈষম্যের নিন্দা এবং জাতিসমূহের কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে। পরিশেষে বলা যায়, যদিও পরাশক্তিগুলোর ভেটো ক্ষমতার কারণে অনেক সময় জাতিসংঘ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধার সম্মুখীন হয়, তবুও আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং বিশ্বের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে এর ভূমিকা অনন্য। সংঘাত নিরসন ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়তে জাতিসংঘের কার্যকর অভিভাবকত্বই একমাত্র পথ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো এই অবস্থার সুবিধা পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এদেশের জনগণ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। সমস্যা হচ্ছে, জাতীয় শক্তির দুর্বলতার কারণে একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে অধিকাংশ ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ এক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছে।

ক.

সার্ক কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গঠনের সুবিধা আলোচনা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ কী ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে?

ঘ.

আন্তর্জাতিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।