(ক)
দুইটি দেশের মধ্যে অথবা দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয়কার্য সম্পাদিত হয়, তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।
(খ)
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদন ও বণ্টনসহ সকল বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:
১. সম্পদের যথাযথ ব্যবহার: ব্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।
২. মূলধন গঠন: ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায় এবং মূলধন গঠন হয়, যা জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩. আয় বৃদ্ধি: ব্যবসায় ব্যক্তিগত আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
৪. সরকারি রাজস্ব: সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্যবসায়িক খাতের ওপর আরোপিত কর বা রাজস্ব।
সুতরাং, সম্পদ আহরণ থেকে শুরু করে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
(গ)
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, মি. রবিন বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
এক দেশের সাথে অন্য দেশের বা এক দেশের ব্যবসায়ীর সাথে অন্য দেশের ব্যবসায়ীর যে ক্রয়-বিক্রয়কার্য সম্পাদিত হয়, তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন। বৈদেশিক বাণিজ্য সাধারণত আমদানি, রপ্তানি ও পুনঃরপ্তানি এই তিন ধরনের হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ভুটানে সমুদ্রবন্দর না থাকায় সেখানকার ব্যবসায়ীরা সরাসরি বৈদেশিক বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ী মি. রবিন বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে আনছেন এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে ভুটানে বিক্রয়ের জন্য প্রেরণ করছেন। এখানে মি. রবিন এক দেশ থেকে পণ্য কিনে অন্য দেশে বিক্রয় করছেন, যা বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বিশেষ রূপ। তাই বলা যায়, মি. রবিন বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য বলে আমি মনে করি।
এক দেশ হতে পণ্য ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাত করে তা অন্য দেশে বিক্রয় করাকে পুনঃরপ্তানি বলে। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দেশ যেমন প্রয়োজনীয় পণ্য পায়, তেমনি মধ্যস্থতাকারী দেশ বা ব্যবসায়ী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে, মি. রবিন বিদেশ থেকে পণ্য এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভুটানে পাঠাচ্ছেন। এই কার্যক্রমের ফলে কয়েকটি ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পুনঃরপ্তানির মাধ্যমে মি. রবিন এবং তার দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, যা বেকারত্ব দূর করে।
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মি. রবিনের সাথে দেশও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো এই বাণিজ্যের ফলে জাতীয় উৎপাদন ও আয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটছে।
৪. পণ্যের সহজলভ্যতা: সমুদ্রবন্দর না থাকায় ভুটান যে সমস্যায় ছিল, মি. রবিনের বাণিজ্যের ফলে তারা প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক বাণিজ্য বিশেষ করে পুনঃরপ্তানি বাণিজ্যের মাধ্যমে সম্পদ ও মুদ্রার আদান-প্রদান ঘটে, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। তাই উদ্দীপকে উল্লিখিত বাণিজ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য।