ক.
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
খ.
দাঁতাত (Detente) একটি ফরাসি শব্দ। এর অর্থ হলো উত্তেজনা প্রশমন। ১৯৭০-এর দশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠাণ্ডা লড়াই ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এই পর্বটি দাঁতাত নামে পরিচিত।
স্নায়ুযুদ্ধোত্তর যুগে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়া পরস্পর বিরোধী প্রতিযোগিতা ও শত্রুতামূলক মনোভাব পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নীতি গ্রহণ করে। এ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাঁতাত বলে অভিহিত করে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান প্রক্রিয়ায় দাঁতাত সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল ।
গ.
উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে পড়া সোভিয়েত ইউনিয়ন (সাবেক) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের মিল রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধ এমন এক প্রকার যুদ্ধাবস্থাকে নির্দেশ করে যা প্রত্যক্ষ যুদ্ধও নয়, আবার শান্তিও নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। আদর্শগতভাবে এ দুটি রাষ্ট্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সমর্থক এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী। নিজেদের আদর্শের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি ও অন্যান্য দেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এ দুই পরাশক্তি পরস্পরের বিরোধিতা করতে থাকে। এর ফলে প্রায় প্রতি মুহূর্তে যুদ্ধের উত্তাপ ছড়ায়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক বিধ্বংসী অস্ত্রের অধিকারী উভয় দেশই সযত্নে যুদ্ধ এড়িয়ে চলে। গত শতকের নব্বই দশকের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এরকম যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতিকেই স্নায়ুযুদ্ধ বা Cold War বলে অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কাশ্মীর সীমান্তের সমস্যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। দু'টি দেশের সরকার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। দেশ দু'টির উদ্বিগ্ন জনগণ যুদ্ধের আশঙ্কায় সময় কাটায়। তবে দেশগুলোর সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকালীন দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিষয় লক্ষ করা যায়। সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাটি স্নায়ুযুদ্ধের নির্দেশক
ঘ.
‘উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দু'টি পৃথক শিবিরে বিভক্ত করে'— উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুরনো বিশ্বব্যবস্থা বদলে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই শীর্ষ পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছিল পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমর্থক এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুসারী। ফলে দেশ দু'টির মধ্যে আদর্শগত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে প্রায় গোটা বিশ্ব পরস্পরবিরোধী দু'টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায় । এতে ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও যোগ দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশ দু'টি পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিতে থাকে। দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে কিউবা, ভিয়েতনাম, কোরিয়া ও ইউরোপ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। এমনকি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। দুই বিপরীত শিবিরে বিভক্ত বিশ্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ বলয়ভুক্ত দেশগুলোকে প্রচুর আর্থিক, সামরিক, কূটনৈতিক সহায়তা দিয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার মাধ্যমে এ স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, স্নায়ুযুদ্ধ সমগ্র বিশ্বকে দু'টি বিপরীত শিবিরে বিভক্ত করেছিল-- উক্তিটি যথার্থ।