Facebook Pixel

ভারত ও পাকিস্তান পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্র শক্তিশালী এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সীমান্তে দুই পক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। কিন্তু তারা সচরাচর যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায় না। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা বিরাজ করে। ক. কোরীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয় ? খ. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলতে কী বোঝায় ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের রাষ্ট্র দুটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাষ্ট্র দুটির তুলনা করা যায় ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর উল্লিখিত রাষ্ট্রদ্বয়ের বৈরিতা বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায় ? মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পুঁজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের দ্বন্দ্ব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কোরীয় যুদ্ধ ১৯৫০ সালে সংঘটিত হয়। খ. ' শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ' হলো স্নায়ুযুদ্ধের সময় সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি ও প্রয়োগ করা এক তত্ত্ব । প্রতিদ্বন্দ্বী পুঁজিবাদী বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা তথ্য উত্তেজনা নিরসনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ তত্ত্ব বিভিন্ন সময়ে কাজে লাগিয়েছিল। ষাটের দশকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নে নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটে। তুলনামূলক উদার মানসিকতার দুই নেতা লিন্ডন বি . জনসন যুক্তরাষ্ট্রের ও আলেক্সি কোসিগিন সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় আসেন। তারা ' শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ' ধারণার আওতায় দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। গ. উদ্দীপকের রাষ্ট্র দুটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত একসময়ের বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী সোভিয়েত ইউনিয়ন ( বর্তমান রাশিয়ার পূর্বসূরি ) ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনা করা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশক্তিগুলোর উত্থান - পতন ঘটে ও ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই বিশ্বযুদ্ধের মিত্রপক্ষে থাকলেও যুদ্ধশেষে মতাদর্শগত পার্থক্যসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতান্ত্রিক মতবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্র পুঁজিবাদী মতবাদে বিশ্বাসী ছিল। ধীরে ধীরে প্রায় গোটা বিশ্ব এই দুই পরাশক্তির অধীনে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিরোধ লেগেই থাকতো। মোটের ওপর দুই পরাশক্তির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব চলতে থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায় , ভারত ও পাকিস্তান পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্রই শক্তিশালী এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সীমান্তে দুইপক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। তারা সচরাচর যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায় না। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের স্থায়ী বৈরিতা বিরাজ করে । উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় , উদ্দীপকের রাষ্ট্র দুটির বৈরিতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতার তুলনা করা যায় । ঘ. হ্যাঁ , আমি মনে করি উল্লিখিত রাষ্ট্রদ্বয়ের বৈরিতা অর্থাৎ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গিয়েছিল। প্রথমত , সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেয় তা হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিন তথা পুরো জার্মানি মিত্রপক্ষ ভাগ করে নেয়। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন পায় পূর্ব জার্মানি। আর পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা লাভ করে পশ্চিম জার্মানি। দ্বিতীয়ত , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের রাজনৈতিক ময়দানে যুক্তরাে উত্থান সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনো সঙ্গভাবে মেনে নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্যোগ নেয়। ঠান্ডা লড়াইয়ে প্রাধান্য অর্জনের জন্য দুই দেশই ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্রসহ সমরসম্ভার সমৃদ্ধ করে। তৃতীয়ত , বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে কোরীয় উপদ্বীপ , ভিয়েতনাম , লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ , আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে ছায়া যুদ্ধে (Proxy War) জড়িয়ে পড়ে। বছরের পর বছর ধরে চলা এসব যুদ্ধে অকল্পনীয় মাত্রায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চতুর্থত , স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট। ১৯৬২ সালের ১১ অক্টোবর সোভিয়েত সরকার ঘোষণা করে যে , কিউবার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে তারা সে দেশে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ - পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা কিউবায় রূপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনা থেকে বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন । উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় , সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈরিতা বিশ্বশান্তিকে বিভিন্ন সময়ে নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভারত ও পাকিস্তান পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র। এ দুটি রাষ্ট্র শক্তিশালী এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সীমান্তে দুই পক্ষের গুলিবর্ষণের কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ লেগে থাকে। কিন্তু তারা সচরাচর যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছায় না। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈরিতা বিরাজ করে।

ক.

কোরীয় যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের রাষ্ট্র দুটির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাষ্ট্র দুটির তুলনা করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

তুমি কি মনে কর উল্লিখিত রাষ্ট্রদ্বয়ের বৈরিতা বিশ্বশান্তিকে এক নাজুক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।