Facebook Pixel

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা ভাগকর-শাসনকর নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্ম ভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ করতে এতো দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না। ক. মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতিটি ব্যাখ্যা কর। গ. ভাগ কর ও শাসন কর নীতি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে- উক্তিটি আলোচনা কর। ৩ ঘ. কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- যুক্তি দিয়ে বিচার কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। খ. ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ শাসকরা ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে শাসনকার্য পরিচালনা করার যে নীতি গ্রহণ করেছিল তাকেই 'ভাগ কর শান কর' নীতি বলে। এ নীতির আওতায় ব্রিটিশরা বাংলাকে বিভক্ত করে একটি সাম্প্রদায়কে নিজেদের অনুকূলে রেখে অপর সাম্প্রদায়কে শাসন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। মূলত তাদের উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ শাসন দীর্ঘায়িত করা। গ. ভাগ কর, শাসন কর নীতি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে- মন্তব্যটি যথার্থ। 'ভাগ কর, শাসন কর' নীতি ব্রিটিশ শাসকদের একটি কুটকৌশল। যা ভারতীয় উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশরা সামাজিক, ধর্মীয় এবং জাতিগত বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। তারা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও বৈরিতা বৃদ্ধি করে এবং এক সম্প্রদায়কে অপর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে নিজেদের শাসন মজবুত করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা ভাগ কর-শাসনকর নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে। এ কথাটি যথার্থ কারণ, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ এই নীতির একটি উদাহরণ, যা বাংলার হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে ফাটল ধরায়। এই নীতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যেই বিভক্তি ঘটায়নি, বরং সাধারণ জনগণের মধ্যেও সন্দেহ এবং অসহযোগিতার বীজ বপন করে। ব্রিটিশরা স্থানীয় শাসকদের মধ্যে স্বার্থপরতা জাগিয়ে তুলে তাদেরকে নিজেদের পক্ষে টেনে নেয় এবং একতাবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠতে বাধা দেয়। তবে, এই নীতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নেতিবাচক ছিল, কারণ এটি জাতিগত এবং সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের মূলে আরও জটিলতা সৃষ্টি করে, যার প্রভাব স্বাধীনতার পরও রয়ে গেছে। অতএব, এই নীতি ব্রিটিশ শাসনের টিকে থাকার হাতিয়ার হলেও, এটি ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘ. কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- উক্তিটি যৌক্তিক। ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বড় ভূমিকা ছিল। কংগ্রেস সর্বধর্মীয় দল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তুলে ধরেছিল, যা দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তি গড়ে তোলে। এই ধর্মভিত্তিক বিভাজন সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করে এবং জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে তোলে। ব্রিটিশরা বিভাজন-নীতির মাধ্যমে এই বিভাজনকে আরও উসকে দেয়, যা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে কার্যকর হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ভাগ কর শাসন কর নীতি ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘায়িত করেছিল ভারতবর্ষে। তবে এর পেছনে তাদের কাজকে সহজ করে দেয় মুসলিম লীগ ও জাতীয় কংগ্রেস। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সহিংসতা স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যদি কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মীয় ভেদাভেদকে পেছনে ফেলে একটি অভিন্ন জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনা করত, তবে স্বাধীনতা অর্জনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হতে পারত এবং রক্তপাতের মাত্রা কমে আসত। কিন্তু তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মীয় পরিচিতি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে এটি এড়ানো সম্ভব ছিল না। ফলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুধুমাত্র স্বাধীনতার সময়কাল দীর্ঘায়িত করেনি, বরং তা ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাই এই উক্তিটি বাস্তবতাকে চিহ্নিত করে, যেখানে ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব স্বাধীনতার প্রক্রিয়াকে জটিল ও বিভাজিত করেছিল। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন এত বিলম্ব হতো না। মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশরা ভাগকর-শাসনকর নীতি প্রয়োগ করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্ম ভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ করতে এতো দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না।

ক.

মুসলিম লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ.

'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতিটি ব্যাখ্যা কর।

গ.

ভাগ কর ও শাসন কর নীতি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখে- উক্তিটি আলোচনা কর। ৩

ঘ.

কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ধর্মভিত্তিক দলীয় রাজনীতি না করলে ভারত-পাকিস্তানের স্বাধীনতা অর্জন করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো না- যুক্তি দিয়ে বিচার কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।