ক.
ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা ছিলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।
খ.
সমাজ বা রাষ্ট্রে যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না, চাহিদা পূরণ করতে পারে না তারাই মূলত বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী। এ বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো প্রতিবন্ধী (Handicapped)। চিরন্তন ও মানবিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নানা রকম শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে সমাজের অন্যান্যদের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না বা সম্ভব হয় না। এদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিশেষ চাহিদার প্রেক্ষিতে বিশেষ সহযোগিতা, সুবিধা বা সাহায্যের প্রয়োজন হয়। জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ১০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠীরও মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাব এর কথা বলা হয়েছে। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে প্রস্তাব দিতে হয় তাই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব।
লাহোর প্রস্তাবের বৈশিষ্ট্য সমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে এর উত্তর-পশ্চিম অপূর্ব অঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহ গঠন করতে হবে।
২. উল্লেখিত স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের অধীন ইউনিট বা প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।
৩. ভারতের অন্যান্য হিন্দু অঞ্চল গুলোর সমন্বয়েক পৃথক হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে।
৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে তাদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার জনসংবিধানের পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখতে হবে।
৫. প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের ক্ষমতার সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য গুলোর উপর ন্যস্ত থাকবে।
এক্ষেত্রে ভারতের মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণপূর্ব লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়,লাহোর প্রস্তাব প্রথমত ছিল ভারতের হিন্দুদের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ আর ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের দীপ্ত পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক দৃষ্টিতে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে সুস্পষ্ট আভাস। ১৯৪০ সালের এ লাহোর প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের যথেষ্ট প্রভাব ছিল।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় বলে এটি ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত। লাহোর প্রস্তাবের প্রতি কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু এ প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেন এবং মুসলমানদের জন্য স্বাধীন স্বতন্ত্র, আবার ভূমি অসম্ভব বলে উল্লেখ করেন। তবে ঐতিহাসিক সত্যকে এ যে, লাহোর প্রস্তাবের পর থেকে মুসলমান সম্প্রদায়ের নিজস্ব আলাদা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে থাকে। এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের রাজনৈতিক শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনে এক নতুন ধারার জন্ম হয়। দ্বিজাতিতত্ত্বের মাধ্যমে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের আলাদা জাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকেন। সে অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য ভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এরপর থেকে মুসলিম লীগ এবং জিন্নাহর রাজনীতি স্বতন্ত্রের রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত হতে থাকে।১৯৪৭ সালে ১৫ জুলাই লন্ডনে কমন্সসভার এক ঘোষণায় ভারত পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন ডোমেনিয়ন প্রতিষ্ঠার করার কথা বলা হয়। দুই দেশের সীমানা নির্ধারণের জন্য স্যার র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে সীমানা নির্ধারণ কমিটি গঠন করা হয়। ৯ আগস্ট র্যাডক্লিফ তার সীমান্ত রোয়েদাদ সমাপ্ত করে ভাইসরয়ের কাছে জমা দেন যার রহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখেননি। ১৯৪৭ শালার ১৮ জুলাই ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন করা হয় যার ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।