ক.
পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৫৭ সালে।
খ.
১৯০৫ সালে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বঙ্গপ্রদেশকে দুটি অংশে বিভক্ত করাকে বঙ্গভঙ্গ বলা হয়।
বঙ্গভঙ্গ ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ব্রিটিশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি প্রশাসনিক বোঝা লাঘব করে। তাছাড়া এটি নবগঠিত পূর্ববঙ্গের অর্থনীতি ও জীবনমান উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা করে। ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশ ছিল আয়তনে ও জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড়। একজন গভর্নর জেনারেলের পক্ষে এত বড় প্রদেশ শাসন করা খুবই কষ্টকর ছিল। তাই গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ভারত সচিবকে লিখেছিলেন যে, একটিমাত্র কেন্দ্র থেকে এত বড় ও জনবহুল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয়। তার এ লিখিত রিপোর্টের আলোকেই ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে দুটি প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। নতুন প্রদেশটি গঠিত হয় পার্বত্য ত্রিপুরা, ঢাকা, রাজশাহী (দার্জিলিং বাদে), চট্টগ্রাম ও আসাম নিয়ে। এর নাম হয় ‘পূর্ববাংলা ও আসাম' প্রদেশ। অন্যদিকে পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ ।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য আছে।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ আইনের বলেই ভারতের রাজনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ভারতে সর্বপ্রথম একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এতদিন পর্যন্ত ভারতে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশ এবং পরমমিত্র দেশীয় রাজ্যগুলো নিয়ে এক সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করে। এ আইনের দ্বারা উড়িষ্যা ও সিন্ধু নামে ভারতবর্ষে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করা হয়। উদ্দীপকটি এই আইনের বৈশিষ্ট্যকেই ইঙ্গিত করছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ও দুটি নতুন প্রদেশ গঠনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনেও এ বিষয়গুলোর উল্লেখ আছে। এ আইনে ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের পরিকল্পনাও গৃহীত হয়। প্রদেশগুলোতে দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিটি প্রদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়সমূহকে সংরক্ষিত এবং হস্তান্তরিত এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। আলোচ্য আইনটির মাধ্যমে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত স্থাপন করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা করা। এ আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয়, উদ্দীপকটি ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকেই নির্দেশ করছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইন অর্থাৎ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বিভিন্ন কারণে অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।
ব্রিটিশ ভারতের শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতি ও বিবর্তনের ক্ষেত্রে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। এ আইন প্রকৃতপক্ষে ১৯৩৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট অর্থাৎ ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কার্যকর ছিল। তবুও এ আইন বিভিন্ন মহলে বহুলভাবে সমালোচিত হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা যথার্থ ছিল না। তাই স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতার পথে ওই কারণগুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে গভর্নরগণ ছিলেন প্রকৃত শাসক। তারা ব্রিটিশ রাজা বা রানি কর্তৃক নিযুক্ত হতেন এবং সীমাহীন ক্ষমতা লাভ করতেন। তাদের এই ক্ষমতা এবং তার অপব্যবহার প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মৌলিক ধারণার সাথে অসংগতিপূর্ণ ছিল। গভর্নর জেনারেলেরও ছিল অপ্রতিহত ক্ষমতা। এই ক্ষমতা স্বায়ত্তশাসনের মৌলিক নীতিকে খর্ব করেছিল। এছাড়া প্রাদেশিক আইনসভার সীমাবদ্ধতা, যুগ্ম তালিকার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রাধান্য, আমলা, বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য, গভর্নরের নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগ, প্রাদেশিক বিষয়ে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে যে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা কোনো দিনই কার্যকর হয়নি।
আলোচনা শেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বারা ব্রিটিশ ভারতের প্রাদেশিক প্রশাসনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বায়ত্তশাসন, প্রতিষ্ঠা করা হলেও এটি কোনো প্রকৃত এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা ছিল না। মূলত এ শাসন ব্যবস্থা ছিল একটি আড়ম্বরপূর্ণ প্রহসনমাত্র। ফলে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন তার মৌলিকতা হারিয়ে এক বিকৃত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছিল।