ক.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
খ.
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র জনবিক্ষোভ, স্বদেশী আন্দোলন ও বয়কট কর্মসূচির ফলে ব্রিটিশ সরকার চাপের মুখে পড়ে। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা পরিস্থিতিকে সংকটপূর্ণ করে তোলে। অবশেষে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে দিল্লি দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে এবং পুনরায় বাংলা প্রদেশ একত্রিত করা হয়।
গ.
উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যসূচির ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের এক নেতা ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে বিভক্ত করে নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তবে পরবর্তীতে একমাত্র রাষ্ট্রই প্রতিষ্ঠিত হয়। এরূপ বর্ণনায় লাহোর প্রস্তাবের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়, যা 'লাহোর প্রস্তাব' নামে পরিচিত। এ প্রস্তাবটি ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। লাহোর প্রস্তাবের অনেক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল। যেমন- এ প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতবর্ষকে এমনভাবে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করা হতো। এসব রাষ্ট্রের অধীনে প্রতিটি প্রদেশ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতো, তবে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত থাকত। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যাপ্ত ক্ষমতা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। প্রস্তাবটি মূলত মুসলিমদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা এবং সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
ঘ.
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রস্তাব অর্থাৎ লাহোর প্রস্তাবের মধ্যে বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং স্বতন্ত্র জাতিসত্তা রক্ষার প্রয়োজনে কিছু প্রস্তাব উত্থাপিত হয়, যার মধ্যে একটি বিশেষ প্রস্তাব ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব। এই প্রস্তাব পরবর্তীতে শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্মই নয়, বরং নতুন রাষ্ট্রের অংশবিশেষে স্বাধীনতার চেতনা গঠনের বীজ রোপণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ওই লাহোর প্রস্তাব, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। এ প্রস্তাব মুসলমানদের মাঝে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তার অনুভব জাগিয়ে তোলে এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত বিভক্তি হলে পূর্বাঞ্চলে (বর্তমান বাংলাদেশ) ওই সময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার জনগণ, যখন বৈষম্যের শিকার হয়, তখন লাহোর প্রস্তাবেই তারা অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান-সবই লাহোর প্রস্তাবের সেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ধারারই ধারাবাহিক রূপ। এভাবেই পূর্ব বাংলার জনগণের স্বাধিকার চেতনা একসময় স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং, লাহোর প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম উৎস ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
আলোচনার শেষে বলা যায়, লাহোর প্রস্তাব শুধু পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত্তিই ছিল না, বরং আরও ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পথরেখাও। এ প্রস্তাবেই নিহিত ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার শিকড়।