ক.
সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প সর্বপ্রথম ঢাকার কায়েতটুলিতে চালু করা হয়।
খ.
বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার বিকাশে ১৯৫৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। এরপরের বছর অর্থাৎ ১৯৫৯ সালে স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করে এক জন সচিবের অধীনে তিন জন মুখ্যসচিবকে তিন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবেই স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে আলাদাভাবে গঠিত হয় সমাজকল্যাণ পরিদপ্তর।
গ.
উদ্দীপকে আলোচিত দানশীল ব্যক্তি হাজী মুহাম্মদ মহসীন তার দানশীলতার ভূমিকার মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার বিকাশে ভূমিকা রাখেন।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই সামাজিক জটিলতা ও | সমস্যার তীব্রতার কারণেই সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। তবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্গত দেশগুলোতে সমাজকর্মের বিকাশে উদ্দীপকের দানশীল ব্যক্তির মতো মহানুভব ব্যক্তিগণের অবদান অপরিসীম, বাংলাদেশে সাধারণত দানপ্রথা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে সমাজপ্রেমীদের নিজস্ব উদ্যোগে সমাজসেবামূলক কাজের সূত্রপাত হয়। উদ্দীপকে আলোচিত ব্যক্তি হাজী মুহাম্মদ মহসীন ভারতীয় উপমহাদেশে দানশীলতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তার দানকৃত অর্থ তহবিল তিনি শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমান, অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য দান করে যান। ফলে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী তার দানকৃত অর্থের সাহায্যে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। হাজী মুহাম্মদ মহসীনের এ দানশীলতা সমাজদরদিদের মধ্যেও মহৎ চিন্তার উদ্রেক ঘটায়। এর পথ ধরেই বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষের অন্যান্য দেশে সমাজসেবামূলক কাজের সূত্রপাত হয়। আর এ পথের উন্মোচনে উদ্দীপকের দানশীলতার প্রতীক হাজী মুহাম্মদ মহসীনের অবদান অপরিসীম।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশে দানশীলতাকে কেন্দ্র করে সমাজকর্মের বিকাশ ঘটায় উদ্দীপকের দানশীল ব্যক্তি এর সূত্রপাত ঘটাতে তার কাজের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন।
ঘ.
বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার সূত্রপাত ঘটাতে উদ্দীপকের আলোচিত ব্যক্তির দানশীলতা ভূমিকা রাখলেও এর ক্রমবিকাশে তার কর্মকান্ড পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্তর্গত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সমাজকর্মের বিকাশে মানবীয় অনুভূতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও সাধারণত দানপ্রথা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ঘিরে সমাজকর্মের বিকাশ ঘটে। সেখানে উদ্দীপকের দানশীল ব্যক্তি হাজী মুহাম্মদ মহসীনের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশে পরবর্তীতে এ পেশার বিকাশে তার কার্যক্রম সমাজসেবার পথপ্রদর্শন করেছে মাত্র। এরপর সমাজকর্মের ক্রমবিকাশে অবদান রাখে রাষ্ট্র। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি, হয় সেগুলো মোকাবিলায় ১৯৫১ সালে তদানীন্তন সরকার জাতিসংঘের সাহায্যে ও পরামর্শের জন্য আবেদন করে। এরপর জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ ঢাকায় আসেন এবং সমাজকল্যাণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ওপর জরিপকার্য চালান। পরবর্তীতে তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমাজকর্মী সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেন এবং পেশাগত কোর্স চালু করার নির্দেশ দেন। এভাবেই প্রথম বাস্তবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজকর্মের ক্রমবিকাশের পথ প্রশস্ত হয়। উদ্দীপকের হাজী মুহাম্মদ মহসীনের দানশীলতার কল্যাণমূলক অবদান পূর্বে অবিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত থাকলেও পরবর্তীতে এর পথ ধরে তা সংগঠিত রূপ লাভ করে এবং বাংলাদেশে।
সমাজকর্মের ক্রমবিকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের ব্যক্তির অবদান তাই কেবল পথপ্রদর্শক মাত্র। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রশ্নের মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।