Facebook Pixel

'ভাগ কর ও শাসন কর' কৌশল কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ শাসকশ্রেণি একটি দেশকে প্রায় দুইশত বছর শাসন-শোষণ করে। একজন ব্রিটিশ বড় লাট দেশটির সব থেকে বড় প্রদেশকে প্রশাসনিক সুবিধার দোহাই দিয়ে বিভক্ত করলে বড় দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। ক. ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে ভারবর্ষে আগমন করে? খ. স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাগ কর ও শাসন কর নীতির প্রয়োগ ব্রিটিশ ভারতের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬০০ সালে ভারতবর্ষে আগমন করে। খ. হিন্দু সম্প্রদায় দ্বারা প্রভাবিত কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ সূচনালগ্ন থেকে বিভিন্নভাবে বঙ্গভঙ্গ রদের প্রচেষ্টা চালায়। এরই ধারাক্রমে তারা ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে স্বদেশী আন্দোলনের আদর্শকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এ আদর্শ অনুযায়ী তারা ব্রিটিশ দ্রব্য বর্জন, বিদেশি রীতিনীতি পরিহার এবং স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করে দেশীয় সংস্কৃতিতে উজ্জীবিত হতে জনগণকে আহ্বান করে। এটিই ছিল স্বদেশী আন্দোলন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি ব্রিটিশদের উপমহাদেশে শাসনকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করার একটি কূটকৌশল। "ভাগ কর শাসন কর" নীতি ব্রিটিশ শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ছিল, যা তারা বিশেষ করে ভারতে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ব্যবহার করেছিল। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করা। এ নীতির মাধ্যমে ব্রিটিশরা উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। প্রথমে বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করে মুসলমানদের অনুগ্রহ লাভ করে ও হিন্দুদের বিরাগভাজন হয়। পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গ রদ করলে মুসলমানদের বিরাগভাজন হয় এবং হিন্দুদের অনুগ্রহ লাভ করে। কিন্তু ততদিনে উপমহাদেশের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রতি চিরবিনষ্ট হয়। ব্রিটিশদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির কার্যকারিতার ফলেই তা সম্ভব হয়। এ নীতির মাধ্যমে ব্রিটিশরা সামাজিক, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য পুরাপুরি বিনষ্ট করে তাদের শাসনকে স্থায়ী করতে সক্ষম হয়। মোটকথা, ব্রিটিশরা সফলভাবে 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি ও সমাজে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। ঘ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে। উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতিতে এর অবদান অসামান্য। এই বঙ্গভঙ্গেই ব্রিটিশরা তাদের 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতির সফল প্রয়োগ করে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দীর্ঘদিন উপমহাদেশে তাদের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ প্রদেশ ছিল বাংলা। শাসকের পক্ষে এতো বিশাল এলাকা শাসন করা সম্ভব নয় বিধায় লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক কারণে বাংলাকে বিভক্ত করার কথা প্রদর্শন করা হলে প্রকৃতপক্ষে এর উল্লেখযোগ্য প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক। ব্রিটিশ সরকার হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি নষ্ট করে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ রোধ করার জন্যই মূলত বঙ্গভঙ্গ করেছিল। এ বঙ্গভঙ্গ ও পরবর্তীতে তা রদের ফলেই উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি চিরবিনষ্ট হয়, যা পরবর্তীতে আর জোড়া লাগানো সম্ভবপর হয়নি। উদ্দীপকের লক্ষণীয় 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশরা কীভাবে সবচেয়ে বড় প্রদেশ তথা বাংলাকে বিভক্ত করে তাদের শাসন স্থায়ী করেছিল ও সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে ছিল তাই তুলে ধরা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে সুস্পষ্টভাবে ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গের মিল রয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

'ভাগ কর ও শাসন কর' কৌশল কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ শাসকশ্রেণি একটি দেশকে প্রায় দুইশত বছর শাসন-শোষণ করে। একজন ব্রিটিশ বড় লাট দেশটির সব থেকে বড় প্রদেশকে প্রশাসনিক সুবিধার দোহাই দিয়ে বিভক্ত করলে বড় দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে।

ক.

ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে ভারবর্ষে আগমন করে?

খ.

স্বদেশি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাগ কর ও শাসন কর নীতির প্রয়োগ ব্রিটিশ ভারতের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।