Facebook Pixel

ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যাঙের কাঠামো গঠনকারী তন্ত্রটির বিভিন্ন অস্থি পর্যবেক্ষণ করানোর সময় শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষের কাঠামো দেখিয়ে বললেন, চলনের সময় শুধু অস্থি নয় পেশিও সম্মিলিতভাবে কাজ করে। ক. অ্যাসিটাবুলাম কী? খ. অক্ষীয় কঙ্কাল বলতে কী বোঝ? গ. চলনের সময় অস্থির সাথে সম্মিলিতভাবে যে অংশটি কাজ করে তাতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা দেয় না – ব্যাখ্যা করো। ঘ. মানুষের কাঠামো দানকারী তন্ত্রটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৭ঃ মানব শারীরতত্ত্বঃ চলন ও অঙ্গচালনা

উৎস: অনুশীলনীর প্রশ্ন ফজলুল হক স্যার

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মানুষের শ্রোণিচক্রের ইলিয়াম, ইশিয়াম ও পিউবিস অস্থির সংযোগস্থলে অবস্থিত যে অগভীর গহ্বরে ফিমার অস্থির মস্তক আটকানো থাকে, তাকে অ্যাসিটাবুলাম বলে। (খ) কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের লম্ব অক্ষ বরাবর অবস্থান করে এবং দেহকাণ্ডের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করে অবলম্বন প্রদান করে, তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। এটি মূলত করোটি, মেরুদণ্ড এবং বক্ষপিঞ্জর নিয়ে গঠিত। অক্ষীয় কঙ্কাল দেহের গুরুত্বপূর্ণ ও কোমল অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করে। (গ) চলনের সময় অস্থির সাথে পেশি সম্মিলিতভাবে কাজ করে। পেশি কেবল সংকুচিত হতে পারে, কিন্তু ধাক্কা দিতে পারে না। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো: পেশিগুলো জোড়ায় জোড়ায় বিপরীতমুখী কাজ করে। যেমন, বাহুর বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশি। বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে কনুই সন্ধি বাঁকা হয়, ফলে নিম্নবাহু ঊর্ধ্ববাহুর দিকে ভাঁজ হয়। আবার, ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে কনুই সোজা হয় এবং নিম্নবাহু ঊর্ধ্ববাহু থেকে দূরে সরে যায়। পেশিগুলো অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে গঠিত, যা স্নায়বিক উদ্দীপনা পেলে সংকুচিত হয়ে অস্থির ওপর টান সৃষ্টি করে। পেশি নিজে প্রসারিত হতে পারে না, বরং বিপরীত পেশির সংকোচনের ফলে এটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এ কারণেই বলা হয়, পেশিতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা দেয় না। (ঘ) মানুষের কাঠামো দানকারী তন্ত্রটি হলো কঙ্কালতন্ত্র। মানবদেহে এর গুরুত্ব অপরিসীম: ১. কাঠামো ও আকৃতি প্রদান: কঙ্কালতন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং শরীরের নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রাখে। ২. সুরক্ষা: এটি দেহের গুরুত্বপূর্ণ ও কোমল অঙ্গ যেমন—মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও যকৃতকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। ৩. চলন ও অঙ্গচালনা: পেশি, লিগামেন্ট ও টেনডনের সাথে যুক্ত হয়ে অস্থিসন্ধি গঠনের মাধ্যমে কঙ্কালতন্ত্র আমাদের হাঁটা-চলা ও অঙ্গ সঞ্চালনে সহায়তা করে। ৪. রক্তকণিকা উৎপাদন: অস্থির অভ্যন্তরে অবস্থিত অস্থিমজ্জা থেকে নিয়মিত লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয়। ৫. খনিজ সঞ্চয়: কঙ্কালতন্ত্র ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ লবণ সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজনে রক্তে সরবরাহ করে। ৬. শারীরবৃত্তীয় সহায়তা: বক্ষপিঞ্জর শ্বাস-প্রশ্বাসে এবং মধ্যকর্ণের ক্ষুদ্র অস্থিগুলো শ্রবণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। পরিশেষে বলা যায়, কঙ্কালতন্ত্র ছাড়া মানুষের দৈহিক গঠন, সুরক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅনুশীলনীর প্রশ্ন - ফজলুল হক স্যার

ব্যবহারিক ক্লাসে ব্যাঙের কাঠামো গঠনকারী তন্ত্রটির বিভিন্ন অস্থি পর্যবেক্ষণ করানোর সময় শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের মানুষের কাঠামো দেখিয়ে বললেন, চলনের সময় শুধু অস্থি নয় পেশিও সম্মিলিতভাবে কাজ করে।

ক. অ্যাসিটাবুলাম কী?

খ. অক্ষীয় কঙ্কাল বলতে কী বোঝ?

গ. চলনের সময় অস্থির সাথে সম্মিলিতভাবে যে অংশটি কাজ করে তাতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা দেয় না – ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মানুষের কাঠামো দানকারী তন্ত্রটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।