Facebook Pixel

ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবাদি পশুর ভূমিকা ব্যাপক। বিশেষকরে আমাদের মত কৃষিপ্রধান দেশে যেখানে একটি পশু মারা গেলে কৃষককে নিঃস্ব মনে হয় সেখানে এর বিমার অপরিহার্যতা বলার অপেক্ষা রাখে না। গবাদি পশুর মৃত্যু একদিকে যেমন কৃষিকাজের বিঘ্ন ঘটায় তেমনি আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনে। কোনো দুর্ঘটনা বা রোগাক্রমণের ফলে পশুর মৃত্যু হলে এর ক্ষতিপূরণস্বরূপ বিমাগ্রহীতাকে বিমাকারী অর্থ প্রদান করে থাকে। ক. ডাকাতি বিমা কী? খ. "সকল প্রতিদান বৈধ হওয়া উচিত" – ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের বিমার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে এবং তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? তা ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমায় কোম্পানি হতে ক্ষতিপূরণ পেতে চাইলে একজন বিমাগ্রহীতার দাবি পেশ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা কর।

বিষয়: ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১৪ঃ বিবিধ বিমা

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রাখা অস্থাবর সম্পদের ডাকাতিজনিত ঝুঁকির বিপরীতে বিমা কোম্পানির সাথে যে চুক্তি করা হয়, তাকে ডাকাতি বিমা বলে। (খ) বিমা চুক্তিতে বিমাগ্রহীতা বিমাকারীকে যে অর্থ প্রদান করেন এবং বিমাকারী ঝুঁকির বিপরীতে যে ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেন, তাকে প্রতিদান বলা হয়। "সকল প্রতিদান বৈধ হওয়া উচিত" এর অর্থ হলো বিমা চুক্তির উদ্দেশ্য এবং এর বিনিময়ে আদান-প্রদানকৃত প্রতিদান অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে। মূলত আর্থিক প্রতিদান ছাড়া কোনো বিমাচুক্তি সম্পন্ন হয় না। এখানে বিমাগ্রহীতার প্রিমিয়াম প্রদান এবং বিমাকারীর ক্ষতিপূরণ প্রদান উভয়ই আর্থিক প্রতিদান। যদি বিমাচুক্তিটি কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে বা আইন বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হয়, তবে সেই প্রতিদান বৈধ হবে না এবং চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই একটি কার্যকর বিমা চুক্তির জন্য সকল প্রতিদান বৈধ হওয়া আবশ্যক। (গ) উদ্দীপকে গবাদি পশু বিমার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। কৃষিপ্রধান দেশে গবাদি পশু কৃষকের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো দুর্ঘটনা বা রোগাক্রমণের ফলে গবাদি পশুর মৃত্যু হলে কৃষকের ব্যাপক আর্থিক বিপর্যয় ঘটে এবং কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এই ঝুঁকি মোকাবিলা করে কৃষকদের আর্থিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য গবাদি পশু বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবাদি পশু বিমার গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. আর্থিক নিরাপত্তা: পশুর মৃত্যু বা অক্ষমতার ফলে কৃষকের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, বিমা কোম্পানি তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করে, ফলে কৃষক নিঃস্ব হওয়া থেকে রক্ষা পান। ২. বিনিয়োগ বৃদ্ধি: বিমার নিশ্চয়তা থাকলে কৃষক ও উদ্যোক্তারা নির্ভয়ে পশুপালনে অধিক বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হন, যা কৃষি খাতের উৎপাদন বাড়ায়। ৩. শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান: এই বিমার ফলে গবাদি পশু শিল্পের পাশাপাশি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য শিল্প এবং চামড়া শিল্পের প্রসার ঘটে। এর ফলে গ্রামীণ এলাকায় নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ৪. দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হওয়ার ফলে দারিদ্রতা হ্রাস পায় এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত গবাদি পশু বিমার ক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি হতে ক্ষতিপূরণ পেতে হলে একজন বিমাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট দাবি পেশ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। দাবি পেশের ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: ১. তাৎক্ষণিক বিজ্ঞপ্তি: বিমাকৃত গবাদি পশু মারা গেলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে বিমাগ্রহীতাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমা কোম্পানিকে তা জানাতে হবে। দেরি করে জানালে দাবি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২. দাবি ফরম পূরণ ও নথিপত্র জমা: বিমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত দাবি ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে হয়। এর সাথে বিমা পলিসির মূল কপি এবং পশুর পরিচিতি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়। ৩. প্রমাণাদি উপস্থাপন: পশুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার জন্য একজন নিবন্ধিত ভেটেরিনারি ডাক্তারের স্বাক্ষরিত মৃত্যু সনদ বা চিকিৎসা প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এটি প্রমাণ করে যে মৃত্যুটি বিমাকৃত ঝুঁকির আওতাভুক্ত ছিল। ৪. তদন্ত ও যাচাইকরণ: বিমা কোম্পানি সাধারণত নিজস্ব সার্ভেয়ার বা তদন্তকারী নিয়োগ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। তারা পশুর পরিচয়, মৃত্যুর কারণ এবং পলিসির শর্তাবলি খতিয়ে দেখেন। ৫. ক্ষতিপূরণ প্রদান: তদন্তের পর দাবিটি বৈধ বলে প্রমাণিত হলে এবং সকল শর্ত পূরণ হলে বিমা কোম্পানি পলিসিতে উল্লিখিত বীমাকৃত অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বিমাগ্রহীতাকে প্রদান করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবাদি পশুর ভূমিকা ব্যাপক। বিশেষকরে আমাদের মত কৃষিপ্রধান দেশে যেখানে একটি পশু মারা গেলে কৃষককে নিঃস্ব মনে হয় সেখানে এর বিমার অপরিহার্যতা বলার অপেক্ষা রাখে না। গবাদি পশুর মৃত্যু একদিকে যেমন কৃষিকাজের বিঘ্ন ঘটায় তেমনি আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনে। কোনো দুর্ঘটনা বা রোগাক্রমণের ফলে পশুর মৃত্যু হলে এর ক্ষতিপূরণস্বরূপ বিমাগ্রহীতাকে বিমাকারী অর্থ প্রদান করে থাকে।

ক. ডাকাতি বিমা কী?

খ. "সকল প্রতিদান বৈধ হওয়া উচিত" – ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের বিমার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে এবং তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ? তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিমায় কোম্পানি হতে ক্ষতিপূরণ পেতে চাইলে একজন বিমাগ্রহীতার দাবি পেশ পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আয়েশা উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী। সে অটো গাড়িতে চড়ে কলেজে যাতায়াত করে । আয়েশার বাবা বিপদের কথা চিন্তা কর...

আয়েশা উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী। সে অটো গাড়িতে চড়ে কলেজে যাতায়াত করে । আয়েশার বাবা বিপদের কথা চিন্তা কর...

এই উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ডাক জীবনবিমা ব্যবস্থা চালু হয় কবে?

ওমর ফারুক আতিকো ইন্স্যুরেন্সে ১৮ বছর মেয়াদি একটি জীবন বিমা গ্রহণ করেন। প্রতি ৬ মাস অন্তর তিনি কিস্তি প্রদান করতে থাকেন। ...

করিম সাহেবের এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই বন্যা, খরা, ডাকাতি এবং পোকামাকড়ের কারণে তার ফসলের ক্ষতি হয়। এ কারণে তিনি ব্যাপক...

কোন ধরনের সম্পত্তি বিমায় নৈতিক ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকে ? ব্যাখ্যা করো ।

কোন বিমার ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতাকে দাবি হিসেবে অর্থ পরিশোধ করা হয় না?

কোনটি বিমাযোগ্য ঝুঁকি?

কোনটি ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমার অন্তর্ভুক্ত?

কোনটি শস্য বিমার ঝুঁকি বহির্ভূত?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।