(ক)
কোনো কোম্পানি অধিকতর মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার বিলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ আনুপাতিক হারে পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষণ করলে তাকে রাইট শেয়ার বা অধিকারযোগ্য শেয়ার বলে।
(খ)
নাবালক সাধারণত অংশীদার হতে পারে না।
অংশীদারি আইনের ৩০(১) ধারা অনুযায়ী যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলা হয়। আইনত নাবালক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হতে পারে না, তাই সে ব্যবসায়ের পূর্ণ অংশীদার হতে পারে না। তবে সকল অংশীদারের সম্মতিক্রমে নাবালককে ব্যবসায়ের মুনাফায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে সীমাবদ্ধ অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে সে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে না, তবে ব্যবসায়ের হিসাব দেখার অধিকার রাখে।
(গ)
শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে সরকারের ইচ্ছার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের সুষম শিল্পায়ন উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে উন্নয়ন সাধন করাকে সুষম শিল্পায়ন বলে। সাধারণত বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা অধিক মুনাফার আশায় কেবল উন্নত ও সাজানো গোছানো ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো শিল্পবর্জিত থেকে যায়। এই বৈষম্য দূর করতে সরকার লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অনুন্নত এলাকায় শিল্প ও ব্যবসায় গড়ে তোলে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বেসরকারি উদ্যোক্তাগণ সাজানো গোছানো ব্যবসায় কেন্দ্রগুলোতে ব্যবসায় করতে পছন্দ করেন, কিন্তু সরকার চায় সর্বত্র শিল্প ও ব্যবসায় গড়ে তুলতে। এখানে সরকারের মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং দেশের সর্বত্র শিল্পের বিস্তার ঘটানো। এই লক্ষ্যটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের সুষম শিল্পায়ন উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, বলা যায় যে উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের ইচ্ছার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের সুষম শিল্পায়ন উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে গণ পরিবহন হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা বা BRTC-এর কথা বলা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের যৌক্তিকতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (BRTC) একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনকল্যাণ। বেসরকারি পরিবহন খাত সাধারণত মুনাফাচালিত হয়, যার ফলে তারা কেবল লাভজনক রুটগুলোতে সেবা প্রদান করে এবং ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু BRTC সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ করে দেয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, BRTC-এর মাধ্যমে সরকার সর্বত্র সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চায় এবং প্রতিষ্ঠানটির লাভ না হলেও সাধারণের সুবিধা বিবেচনা করে এটি অব্যাহত রাখা উচিত। এই বক্তব্যের যৌক্তিকতা হলো, রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনসেবা নিশ্চিত করা। BRTC-এর মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ সহজ ও সস্তায় যাতায়াতের সুযোগ পায়, যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
সুতরাং, সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ এবং সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে BRTC-এর মতো গণ পরিবহন ব্যবস্থার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।