(ক)
নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে আবদ্ধ জনসমষ্টি যখন রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে বা করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, তখন তাকে জাতি বলে।
(খ)
যে শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মূলত দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা রাখে, তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে। এই ব্যবস্থায় একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করে। যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নে গতিশীলতা আসে।
(গ)
উদ্দীপকে মূলত 'গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ' ও 'রাজনৈতিক মূল্যবোধের' কথা বলা হয়েছে।
মূল্যবোধ হলো সমাজের সেসব আদর্শ ও লক্ষ্য যা সামাজিকভাবে সমর্থিত এবং মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত লোভ-লালসা ও হিংসা-বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে থেকে দেশপ্রেমের পরিচয় দেওয়া এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত। এই মানসিকতা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক। যখন একজন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা দলীয় লাভের চেয়ে বড় মনে করে, তখন তা প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এটি নাগরিকদের মধ্যে সহনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং জাতীয় ঐক্যের পথ প্রশস্ত করে। সুতরাং, উদ্দীপকটি একটি উন্নত রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নির্দেশ করছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের উল্লিখিত মূল্যবোধ অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। মূল্যবোধ হলো সুশাসনের ভিত্তি এবং সুশাসন হলো মূল্যবোধের বাস্তব প্রতিফলন।
সুশাসন বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত হয়। যখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন শাসনব্যবস্থা অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যেমন- সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতা সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে দেয়। এটি নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি করে এবং আইনের শাসনকে শক্তিশালী করে তোলে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য, যা উদ্দীপকের মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে সম্ভব। শাসক ও শাসিত উভয়েই যদি ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জনস্বার্থকে বড় মনে করেন, তবে রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মূল্যবোধটি সুশাসনের জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত। এই মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।