(ক)
২০০৯ সালে বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়।
(খ)
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো তাদের উৎস এবং পরিধির ভিন্নতা। মৌলিক অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্রের সংবিধান, আর মানবাধিকারের উৎস হলো জাতিসংঘ। মৌলিক অধিকারের পরিধি কেবল নিজ রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কিন্তু মানবাধিকারের পরিধি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রীয় চেতনাবোধ থেকে বিকাশ লাভ করে, অন্যদিকে মানবাধিকার আন্তর্জাতিক চেতনাবোধ থেকে উদ্ভূত। এছাড়া, মানবাধিকারের তুলনায় মৌলিক অধিকার অনেক বেশি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট এবং রাষ্ট্র কর্তৃক আইনগতভাবে সংরক্ষিত।
(গ)
রহমত আলী দম্পতির ভোটদান রাজনৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিকরা যেসব দায়িত্ব পালন করে তাকে কর্তব্য বলে। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কিছু দায়িত্ব বা কর্তব্যও রয়েছে। নাগরিকরা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা বা বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে, যাকে রাজনৈতিক কর্তব্য বলা হয়। যেমন: রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, প্রচলিত আইন মেনে চলা, যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্রিয় হওয়া প্রভৃতি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বৃদ্ধ রহমত আলী ও তার স্ত্রী সমাজের প্রান্তিক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ভোটদান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব। তাই রহমত আলী দম্পতির এই কাজটি রাজনৈতিক কর্তব্যেরই বহিঃপ্রকাশ।
(ঘ)
উক্ত কর্তব্য অর্থাৎ রাজনৈতিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে যে বিষয়টি অর্জন করা যায় তা হলো অধিকার। নাগরিক জীবনে অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
অধিকার হলো এমন কিছু মৌলিক সুযোগ-সুবিধা বা দাবি, যা মানুষের আত্মবিকাশের জন্য আবশ্যক এবং যার নৈতিক বা আইনগত ভিত্তি রয়েছে। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে আইনগত অধিকার বলা হয়। একজন নাগরিক যখন রাষ্ট্রের প্রতি তার কর্তব্য পালন করেন, তখন তিনি রাষ্ট্র থেকে আইনগত অধিকার ভোগ করার সুযোগ পান। যেমন: নিয়মিত কর প্রদান এবং আইন মান্য করার মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
আইনগত অধিকারকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়: সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার। ব্যক্তির নাগরিক জীবনের বিকাশ ও উৎকর্ষের জন্য রাষ্ট্র যে অধিকারগুলো সংরক্ষণ করে তাকে সামাজিক অধিকার বলে। যেমন: জীবন ধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা। এই অধিকারগুলো সংরক্ষিত থাকলে নাগরিক জীবন উন্নত ও বিকশিত হয়। রাজনৈতিক অধিকারের মাধ্যমে মানুষ রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যেমন: নির্বাচনের অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভের অধিকার। রাজনৈতিক অধিকার যত বিস্তৃত হয়, নাগরিক সচেতনতা তত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া জীবনধারণের মান উন্নত করার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সংরক্ষিত সুযোগ-সুবিধাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে, যেমন: কর্মের অধিকার এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিকের অধিকার।
পরিশেষে বলা যায়, সভ্য সমাজে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক। তাই নাগরিক জীবনে আইনগত অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম।