(ক)
একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করার পর তা বাস্তবে রূপদান বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য যে ধরনের সেবা ও সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাকে সমর্থনমূলক সেবা বলে।
(খ)
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থরক্ষা এবং বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য যৌথভাবে যে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, তাকে শিল্প ও বণিক সমিতি বলে।
শিল্প ও বণিক সমিতি দেশের ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য হলো শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা। এটি সদস্যদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে এবং তাদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যাসমূহ সরকারের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রতিকারের ব্যবস্থা করে। ফলে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হয় এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে।
(গ)
উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, মহিলা অধিদপ্তর আয়েশা বেগমকে উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্রদান করেছে।
একজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তাকে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী করতে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তথ্য ও দক্ষতা প্রদান করতে যে সকল সেবা দেওয়া হয়, তাকে উদ্দীপনামূলক সহায়ক সেবা বলে। যখন কোনো ব্যক্তি তার জ্ঞান ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনা করে নতুন কিছু শুরু করতে চায়, তখন এই ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আয়েশা বেগম মহিলা অধিদপ্তর আয়োজিত বিউটিফিকেশন এন্ড পার্লারের ওপর ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার মধ্যে ব্যবসায়িক দক্ষতা তৈরি হয়েছে এবং একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি উদ্দীপনামূলক সহায়তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, মহিলা অধিদপ্তর আয়েশা বেগমকে উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্রদান করেছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের আলোকে আমি মনে করি, SME লোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
SME এর পূর্ণরূপ হলো Small and Medium Enterprise। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে ঋণ সুবিধা প্রদান করে, তাকে SME লোন বলে।
উদ্দীপকে আয়েশা বেগম ব্যাংক থেকে SME লোন নিয়ে 'আয়েশা বিউটি পার্লার' স্থাপন করেছেন এবং তা সুনামের সাথে পরিচালনা করছেন। এই উদাহরণটি থেকে SME লোনের প্রভাব বিশ্লেষণ করলে নিম্নোক্ত যুক্তিগুলো পাওয়া যায়:
১. বেকার সমস্যা সমাধান: SME লোনের মাধ্যমে আয়েশা বেগমের মতো অনেক নারী ও যুবক স্বাবলম্বী হতে পারেন, যা দেশের বেকারত্ব দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে।
২. নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি: সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয়, ফলে দেশে নতুন নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি হয়।
৩. নারীর ক্ষমতায়ন: আয়েশা বেগমের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট যে, SME লোন নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৪. জিডিপিতে অবদান: অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা জাতীয় আয় বা জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
পরিশেষে বলা যায়, SME লোন কেবল একজন ব্যক্তির উন্নয়ন নয়, বরং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।