Facebook Pixel

বিশ্বশান্তি একান্ত কাম্য। সেই চিন্তা থেকেই বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। কিন্তু ব্যর্থতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংগঠনটি শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবিদার। ক. আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর কোথায়? খ. আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার কার্যাবলি উল্লেখ কর। ঘ. উক্ত সংগঠনটির কারণেই প্রায় আট দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় কোনো যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। - পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি

উৎস: Board Exam Question MSB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। (খ) আটলান্টিক চার্টার হলো ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আটলান্টিক মহাসাগরে একটি যুদ্ধজাহাজে এই গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সনদে যুদ্ধোত্তর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। আটলান্টিক চার্টার পরবর্তীকালে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। (গ) উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো জাতিসংঘ (United Nations)। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো: ১. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা: জাতিসংঘের প্রধান কাজ হলো বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখা এবং যেকোনো আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। ২. সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়ন: বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ৩. মানবাধিকার রক্ষা: বিশ্বের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার মর্যাদা রক্ষা করা। ৪. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করা এবং দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ৫. আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আন্তর্জাতিক আদালত ও বিভিন্ন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা। ৬. অছি ব্যবস্থা ও স্বনির্ভরতা: পরাধীন অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলা। (ঘ) উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। যদিও বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তবুও গত আট দশকে এটি বিশ্বকে তৃতীয় কোনো মহাযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথমত, জাতিসংঘ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিরোধ যেমন- আরব-ইসরায়েল সংকট, উপসাগরীয় যুদ্ধ, ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ক্রিমিয়া সংকট এবং বিভিন্ন দেশের গৃহযুদ্ধ নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। এর ফলে অনেক ছোটখাটো সংঘাত বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, সাধারণ পরিষদ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক আলোচনার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। যেকোনো বড় উত্তেজনার মুহূর্তে রাষ্ট্রগুলো সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে, যা বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তৃতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের ভূমিকা বিশ্বকে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে দূরে রেখেছে। যদিও ইউক্রেন সংকট বা অন্যান্য সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তবুও এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জাতিসংঘ ছাড়া বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা আরও কঠিন হতো। পরিশেষে বলা যায়, জাতিসংঘ একটি নিখুঁত সংস্থা নয়, কিন্তু এটি বিশ্বশান্তি রক্ষার জন্য একটি অপরিহার্য মাধ্যম। গত আট দশকের ইতিহাস প্রমাণ করে যে, এই সংগঠনের উপস্থিতির কারণেই পৃথিবী বড় ধরনের সর্বগ্রাসী যুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ধারা বজায় রয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2023)

বিশ্বশান্তি একান্ত কাম্য। সেই চিন্তা থেকেই বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। কিন্তু ব্যর্থতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংগঠনটি শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবিদার। ক. আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর কোথায়? খ. আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার কার্যাবলি উল্লেখ কর। ঘ. উক্ত সংগঠনটির কারণেই প্রায় আট দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় কোনো যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। - পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ILO-এর উদ্দেশ্য কোনটি?

‘X’ ও ‘Y’ রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ। জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মাল...

আধুনিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সমগ্র বিশ্বে তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সাম...

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের মাধ্যমে এই মিশনের কার্যক্রম পরিচ...

ইউনেস্কো-এর সদর দফতর কোথায়?

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। এতে বিভিন্ন গোত্র যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : উক্ত সংঘ বা সম্মেলনের উদ্দেশ্য কী ছিল? i. . ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের করাল গ্রাস হতে...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : করিমপুর ইউনিয়নের দুটো গ্রামের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষের পর তাদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : '?' চিহ্নিত স্থানে কোনটি বসানো যায়?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নাম পুতিন। UNO গঠনকালীন উক্ত দেশের প্রেস...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।