(ক)
UCEP-এর পূর্ণরূপ হলো Underprivileged Children's Educational Programme।
(খ)
ইউনিসেফের দুটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মা ও শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী অসহায় শিশুদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। এছাড়া মা ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা থেকে বাঁচাতে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
(গ)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থাটি হলো ইউএনডিপি (UNDP)। এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development Programme।
বিশ্বব্যাপী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের যে অঙ্গসংগঠনগুলো কাজ করছে, ইউএনডিপি তার অন্যতম। ১৯৬৫ সালের নভেম্বর মাসে এই সংস্থাটি গঠিত হলেও ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। এর সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে ইউএনডিপি-র প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. টেকসই জাতি গঠন: বিশ্বের উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে টেকসই জাতি গঠনের লক্ষ্যে এই সংস্থা কাজ করে।
২. দারিদ্র্য হ্রাস: বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন করা এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
৩. এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন: ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।
৪. শাসনকাঠামো শক্তিশালীকরণ: যেসব দেশের শাসনকাঠামো দুর্বল, সেসব দেশের গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সাধনে সহায়তা করা।
৫. দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ উন্নয়ন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দুর্যোগ পরবর্তী সহায়তা প্রদান এবং পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
৬. মানবাধিকার ও ক্ষমতায়ন: বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
সুতরাং বলা যায়, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ইউএনডিপি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিপন্ন মানুষের কল্যাণে গঠিত সংগঠনটি হলো ইউএনডিপি (UNDP)। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এই সংস্থাটির ভূমিকা অপরিসীম।
১৯৭২ সালের ৩১ জুলাই থেকে ইউএনডিপি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদেশের দারিদ্র্য হ্রাস, শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ জাতিসংঘের এসডিজি-২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউএনডিপি এবং তার উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে ইউএনডিপি-র ভূমিকা নিম্নোক্তভাবে মূল্যায়ন করা যায়:
১. শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং শাসনব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে নির্বাচন কমিশনের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সংসদ ও বিচারবিভাগের সংস্কার সাধনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সংস্কার কার্যক্রম, উপজেলা শাসন পরিচালনা প্রকল্প এবং বিচারব্যবস্থা সুদৃঢ়করণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
২. দারিদ্র্য বিমোচন: দারিদ্র্য সমস্যা সমাধানে সরকার গৃহীত কর্মসূচিতে সহায়তা করতে স্থানীয় মালিকানা, দক্ষতার উন্নয়ন, আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
৩. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা: জ্বালানি ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রিন হাউজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণে মন্ট্রিল প্রোটোকলের আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করছে।
৪. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে সিডিএমপি-২ (Comprehensive Disaster Management Programme) এবং হিউম্যানিটেরিয়ান রেসপন্স টিম-এর মতো প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।
৫. পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন: ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার আদিবাসী ও বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন ও আস্থা অর্জন কর্মসূচি' গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধনের প্রচেষ্টায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউএনডিপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই দেশের বিপন্ন মানুষের কল্যাণে এই সংস্থাটির ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও প্রশংসনীয়।