(ক)
সরকারের অঙ্গ তিনটি। যথা: ১. আইন বিভাগ, ২. শাসন বিভাগ এবং ৩. বিচার বিভাগ।
(খ)
যে আইনসভা দুটি পরিষদ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত হয়, তাকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলে।
এই আইনসভার একটি কক্ষকে নিম্নকক্ষ এবং অন্যটিকে উচ্চকক্ষ বলা হয়। সাধারণত নিম্নকক্ষের সদস্যরা সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষের সদস্যরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত বা মনোনীত হতে পারেন, যেমন: উত্তরাধিকারসূত্রে, মনোনয়নের মাধ্যমে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে।
(গ)
পাঠ্যবইয়ের আলোকে সোহেলের কর্তব্যের ধরনটি হলো অর্থনৈতিক কর্তব্য।
নাগরিকের কর্তব্য বলতে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি একজন নাগরিকের দায়িত্ব পালন করাকে বোঝায়। রাষ্ট্রের আইন মেনে চলা, কর প্রদান করা, জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান কর্তব্য। এই কর্তব্যগুলো পালন করলে রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সে ব্যাংক ঋণ নিয়ে একটি এগ্রোফার্ম স্থাপন করে হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু ও মাছ চাষ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে সে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে, যা তার অর্থনৈতিক কর্তব্যের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া, সে তার অর্জিত লভ্যাংশ থেকে নিয়মিত সরকারকে আয়কর প্রদান করছে, যা একজন নাগরিকের আইনগত ও অর্থনৈতিক কর্তব্যের অংশ। সুতরাং, সোহেল তার অর্থনৈতিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখছে।
(ঘ)
"সোহেলের এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কেবল সরকারের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এর জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। যখন নাগরিকরা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে, তখন রাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের সোহেল একজন শিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে উৎপাদনমুখী খাতের উদ্যোক্তা হয়েছে। তার এগ্রোফার্মের মাধ্যমে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক। এছাড়া, তার এই উদ্যোগের ফলে শুধু তার নিজেরই নয়, বরং আরও অনেকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি, সোহেল নিয়মিতভাবে সরকারকে আয়কর প্রদান করছে। কর হলো রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস, যা রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। সোহেলের মতো নাগরিকরা যখন সততার সাথে কর প্রদান করে এবং উৎপাদনমূলক কাজে বিনিয়োগ করে, তখন রাষ্ট্রের রাজস্ব বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আসে।
পরিশেষে বলা যায়, সোহেলের উদ্যোক্তা হওয়া এবং কর প্রদান করার এই দ্বিমুখী কার্যক্রম দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই সোহেলের এ ধরনের দায়িত্বশীল কার্যক্রম নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতিকে ত্বরান্বিত করবে।