(ক)
যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রধানত বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য উৎপাদন করে, তাদের রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
(খ)
শিল্পায়নের মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে বেকারত্ব নিরসনে সহায়তা করে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত বেকারত্বের মোকাবিলায় শিল্পকারখানা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একসাথে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা কৃষি বা সেবা খাতে ততটা সম্ভব হয় না। ফলে শিল্পায়নের ফলে বেকার মানুষেরা আয়ের সুযোগ পায় এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি হলো চামড়া শিল্প।
যুক্তি: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগ একটি উৎসবে সংগৃহীত হয়। বাংলাদেশে চামড়া শিল্পের প্রধান কাঁচামাল কোরবানির পশুর চামড়া, যা ঈদুল আজহা উৎসবে সংগৃহীত হয়। এছাড়া এই শিল্প থেকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫% অর্জিত হয়, যা চামড়া শিল্পের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। তাই উক্ত শিল্পটি চামড়া শিল্পকে নির্দেশ করে।
চামড়া শিল্পের গুরুত্ব নিম্নরূপ:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: তৈরি পোশাক শিল্পের পর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চামড়া শিল্পের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, এই শিল্পে প্রচুর দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত হয়েছে। ফলে এটি বেকারত্ব দূর করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
৩. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে এটি জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে ও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত চামড়া শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমস্যাগুলো সমাধানে আমার মতামত ও বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. আর্থিক সহায়তা প্রদান: চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।
২. সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন: সরকার কর্তৃক একটি সমন্বিত ও আধুনিক চামড়া নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে শিল্পের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: উদ্যোক্তাদের অদক্ষতা দূর করতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দক্ষ জনশক্তির যোগান বাড়াতে বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজির আধুনিকায়ন এবং এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা প্রয়োজন।
৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: ছোট ছোট ট্যানারিগুলো যাতে উন্নত মানের ফিনিশড লেদার তৈরি করতে পারে, সেজন্য 'ফিনিশিং ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার' চালু করা দরকার। এতে পণ্যের মান বাড়বে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ হবে।
৫. বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কমাতে বিকল্প বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, চামড়া শিল্প বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই শিল্পের সমস্যাগুলো সমাধান করে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব।