Facebook Pixel

বিংশ শতাব্দীর শেষে দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্ববাসীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এ যুদ্ধাবস্থার উদ্ভব যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এ যুদ্ধাবস্থার অবসান একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ক. আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কোথায় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? খ. মিখাইল গর্বাচেভ কেন আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা কীভাবে দূর হয়? বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত যুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে। মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৮ঃ স্নায়ুযুদ্ধঃ পরবর্তী বিশ্ব

উৎস: Test Exam Question RGCR

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ১৯৮৮ সালের ১৪ এপ্রিল জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। (খ) মিখাইল গর্বাচেভ আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ সোভিয়েত অর্থনীতির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল এবং এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও জনবল ক্ষয় হচ্ছিল। এছাড়া, ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং একটি সম্মানজনক পন্থায় এই অকার্যকর যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য গর্বাচেভ এই সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা বলতে স্নায়ুযুদ্ধকে বোঝানো হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। এর প্রধান কারণগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো: ১. দুই পরাশক্তির মানসিকতার পরিবর্তন: দীর্ঘদিনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফলে উভয় পক্ষই বুঝতে পারে যে, বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার দিয়ে প্রকৃত নিরাপত্তা বা শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। ফলে তারা অস্ত্র উৎপাদন হ্রাস এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথে অগ্রসর হয়। ২. জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের ভূমিকা: স্নায়ুযুদ্ধ সৃষ্টিতে বিভিন্ন সামরিক জোটের ভূমিকা থাকলেও, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা ন্যাম (NAM) বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরপেক্ষতার পক্ষে জনমত গঠন করে, যা স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ কমাতে সাহায্য করে। ৩. গর্বাচেভের সংস্কার কর্মসূচি: ১৯৮৭ সালে মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষমতায় এসে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের লক্ষ্যে 'গ্লাসনস্ত' (উদারনীতি) ও 'পেরেস্ত্রৈকা' (পুনর্গঠন) কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এই উদারনৈতিক নীতিগুলো পশ্চিমা বিশ্বে ইতিবাচক সাড়া ফেলে এবং স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশকে শিথিল করে তোলে। ৪. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে আদর্শিক সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় দ্বিমেরুবাদের অবসান ঘটে এবং স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ত্বরান্বিত হয়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে, এই উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে যথার্থ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিশ্ব মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, এই দুই পরাশক্তির দ্বিমেরুভিত্তিক ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তিসাম্যের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং বিশ্ব ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক রূপ লাভ করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সামরিক কৌশল এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং সন্ত্রাস দমনের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান আক্রমণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্ব ও প্রভাব প্রমাণ করে যে, স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব এককেন্দ্রিক বা মার্কিন-কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। সুতরাং, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে রূপান্তরের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Rangamati Govt. College, Rangamati

বিংশ শতাব্দীর শেষে দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অবসান মানবজাতি ও বিশ্ববাসীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এ যুদ্ধাবস্থার উদ্ভব যেমন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এ যুদ্ধাবস্থার অবসান একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়। ক. আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কোথায় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? খ. মিখাইল গর্বাচেভ কেন আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধাবস্থা কীভাবে দূর হয়? বর্ণনা কর। ঘ. উক্ত যুদ্ধের অবসানের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি বিশ্বকে এককেন্দ্রিক বিশ্বে পরিণত করেছে। মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

CIS - এর পূর্ণনাম কী?

CIS কীভাবে গঠিত হয় ?

USSR–এর পূর্ণরূপ কী ?

অনেকগুলো গ্রাম নিয়ে আলফাপুর ইউনিয়ন গঠিত। গ্রামগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়নটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিব...

অনেকগুলো গ্রাম নিয়ে আলফাপুর ইউনিয়ন গঠিত। গ্রামগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়নটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেশী ই...

অনেকগুলো গ্রাম নিয়ে আলফাপুর ইউনিয়ন গঠিত। গ্রামগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়নটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেশী ই...

অস্ট্রো-হাঙ্গেরি নামে ইউরোপে এক বিশাল সাম্রাজ্য ছিল। অনেকগুলো দেশ ও জাতিসত্তা নিয়ে এ সাম্রাজ্য গঠিত ছিল। কিন্তু জনগণ স্...

ইয়াসমিন আক্তার তার পাঁচ ছেলে-বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে এক বিরাট যৌথ পরিবারে বাস করেন। এক সাথে থাকায় গ্রামের সবাই পাঁচ ছেলের প...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভিয়েতনামে সাম্যবাদ আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (কমিউনিজম)...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভিয়েতনামে সাম্যবাদ আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (কমিউনিজম)...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।