(ক)
মাতৃভূমির প্রতি গভীর মমত্ববোধ, আবেগ, অনুভূতি এবং অকৃত্রিম ভালোবাসাই হলো দেশপ্রেম।
(খ)
রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা ও কল্যাণ বজায় রাখার জন্য মানুষ আইন মান্য করে। আইন হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত নিয়মাবলি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টমাস হবস্ (Thomas Hobbes), জেরেমি বেত্থাম (Jeremy Bentham) এবং জন অস্টিন (John Austin)-এর মতে, মানুষ মূলত শাস্তির ভয়ে আইন মেনে চলে। আইন অমান্য করলে রাষ্ট্র কর্তৃক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা থেকে বাঁচার জন্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য নাগরিকরা আইন মেনে চলতে বাধ্য হয়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি মূলত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসকে নির্দেশ করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালাতে থাকে। এর প্রতিবাদে বাঙালিরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মাইলফলক। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা শুরু করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। উদ্দীপকে উল্লিখিত দলীয় নেতা, কর্মী ও মুক্তিসেনাদের বীরত্ব এবং সাধারণ মানুষের রক্তদান ও ত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে।
(ঘ)
'উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত বিষয়টি দেশপ্রেম ও জাতীয়তার ফসল', উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ। জাতীয়তা হলো কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন সত্তা বা একাত্মবোধ, যা তাদের ঐক্যবদ্ধ করে। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তার প্রধান উপাদান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল বাঙালির জাতীয়তাবোধের বহিঃপ্রকাশ। বাঙালি জাতি তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত সহ্য করতে পারেনি, যার ফলে ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছিল। এই ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদই পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনে রূপ নেয়। উদ্দীপকে বর্ণিত দলীয় নেতা, কর্মী ও মুক্তিসেনাদের বীরত্ব এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ মূলত তাদের দেশপ্রেমেরই প্রতিফলন। দেশপ্রেম মানুষকে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য জীবন দিতে উদ্বুদ্ধ করে। যেহেতু বাঙালিরা তাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এবং দেশপ্রেমের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল দেশপ্রেম ও জাতীয়তারই ফসল।