(ক)
ওয়াসা (WASA) এর পূর্ণরূপ হলো Water Supply and Sewerage Authority। এটি বাংলাদেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।
(খ)
জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ব্যবসায় গঠিত হয়। বেসরকারি খাতের একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করে সাধারণ জনগণকে ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে থাকে।
(গ)
উদ্দীপকে পর্যটকদের নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের জন্য সরকারের 'বাংলাদেশ রেলওয়ে' প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন সার্ভিস চালু করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ট্রেন বা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা করার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন সুবিধা প্রদান করা। কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্রের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপন করলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে, যা দেশের পর্যটন খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটাবে। সুতরাং, উদ্দীপকের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়ন করছে।
(ঘ)
পদ্মা সেতুর অপর পাড়ে বৃহদায়তন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে উদ্দীপকে উল্লিখিত নতুন ব্যবসায় অর্থাৎ 'সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি' (Public-Private Partnership - PPP) ব্যবসায়ের তাৎপর্য অপরিসীম।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি ব্যবসায় হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। বৃহদায়তন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এই ব্যবসায়ের তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মূলধনের সংস্থান: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো বিশাল প্রকল্প নির্মাণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র সরকারি বাজেটে এই ব্যয় মেটানো কঠিন হতে পারে। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনের অভাব দূর করা সম্ভব।
২. ঝুঁকি হ্রাস: বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে আর্থিক ও পরিচালন ঝুঁকি থাকে। PPP মডেলের মাধ্যমে এই ঝুঁকি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়, ফলে সরকারের ঝুঁকি কমে।
৩. দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তি: বেসরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ দ্রুত এবং মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
৪. অর্থনৈতিক চাপ হ্রাস: উদ্দীপকে যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেনের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, তেমনি বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও এটি সরকারের আর্থিক চাপ কমাবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
পরিশেষে বলা যায়, বিপুল বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হওয়ায় পদ্মা সেতুর অপর পাড়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি ব্যবসায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।