(ক)
বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
(খ)
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে এমন সব প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যার গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি সরাসরি দেশের সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সংবিধানের অধীনে থেকে স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত কিছু উল্লেখযোগ্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।
(গ)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (Bangladesh Public Service Commission - BPSC)। সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই কমিশন গঠিত হয়। এর প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে পরীক্ষা পরিচালনা করা।
২. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, পদোন্নতি, এক শাখা থেকে অন্য শাখায় বদলি এবং প্রার্থীর উপযোগিতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান করা।
৩. প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি, শৃঙ্খলা এবং অবসর ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান করা।
৪. প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিশনের বার্ষিক কার্যাবলি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা, যা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রজাতন্ত্রের দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
(ঘ)
সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকা অপরিসীম। উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করে। নিচে এর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. মেধাভিত্তিক নিয়োগ: কর্মকমিশন বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে। এর ফলে প্রশাসনে মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়, যা একটি দক্ষ প্রশাসন গঠনের পূর্বশর্ত।
২. নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা: কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার মাধ্যমে এটি প্রশাসনে যোগ্য ব্যক্তিদের স্থান করে দেয়, যা স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি রোধে সহায়ক।
৩. নীতি নির্ধারণে পরামর্শ: সরকারি কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি, শৃঙ্খলা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশন রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান করে। এই পরামর্শগুলো প্রশাসনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কর্মকর্তাদের কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
৪. দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা বাছাইয়ের মাধ্যমে কমিশন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। কমিশনের বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই কমিশনের সততা ও দক্ষতা সরাসরি রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করার সাথে জড়িত।
উপসংহারে বলা যায়, একটি আধুনিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে দক্ষ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের প্রশাসনে নিয়োগ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।