Facebook Pixel

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দীর্ঘদিন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি শাসন ও শোষণ, কৃষির অনগ্রসরতা, শিল্পের পশ্চাৎপদতা, খাদ্য ঘাটতি, অনুন্নত অবকাঠামো, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, বেকারত্ব ইত্যাদি ছিল অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কৃষির উন্নয়ন, শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদেরকে আশাবাদী করেছে। আশা করা যায়, 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থনৈতিক অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ কেন? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে? বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Board Exam Question DiB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) একটি দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভূ-প্রকৃতি, মাটি, জলবায়ু, নদ-নদী এবং খনিজ, বনজ ও প্রাণিজ সম্পদের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্ট পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে ওই দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। (খ) অর্থনৈতিক অবকাঠামো হলো একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদ, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সেবার সমন্বয়ে অর্থনৈতিক অবকাঠামো গঠিত হয়। উন্নত অবকাঠামো থাকলে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহন সহজ হয়, যা বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। যেমন, উন্নত রাস্তাঘাট ও রেলপথ থাকলে গ্রাম থেকে পণ্য দ্রুত শহরে পৌঁছায় এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হয়। আবার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ শিল্পকারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (গ) উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ একটি নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনের ফলে চরম অর্থনৈতিক শোষণ, কৃষির অনগ্রসরতা এবং খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন ছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ফলে অর্থনীতির গতিধারায় ধনাত্মক পরিবর্তন এসেছে। উদ্দীপক অনুযায়ী, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। শিল্প খাতের প্রসার ঘটেছে এবং জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (ICT) উন্নয়ন এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন অর্থনীতিতে গতি এনেছে। প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, কৃষি, শিল্প ও প্রযুক্তির সমন্বিত বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল গতিধারায় নিয়ে গেছে। (ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের 'রূপকল্প ২০২১' ছিল দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার গত এক দশকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ছিল। কৃষি ও শিল্প খাতের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন, ২০২০-২১ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী কৃষি ও শিল্প খাতের অবদান যথাক্রমে 13.47% এবং 34.91% এ পৌঁছেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৬.৫৩ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে প্রমাণ করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও মহামারীর মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। সুতরাং, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা এবং রূপকল্প ২০২১-এর বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছে বলে বিশ্লেষণ করা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2019)

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দীর্ঘদিন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ও পাকিস্তানি শাসন ও শোষণ, কৃষির অনগ্রসরতা, শিল্পের পশ্চাৎপদতা, খাদ্য ঘাটতি, অনুন্নত অবকাঠামো, নিম্ন জীবনযাত্রার মান, বেকারত্ব ইত্যাদি ছিল অর্থনীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কৃষির উন্নয়ন, শিল্পের বিকাশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইত্যাদি আমাদেরকে আশাবাদী করেছে। আশা করা যায়, 'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নের মাধ্যমে এদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ কী? খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্থনৈতিক অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ কেন? গ. উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে? বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।