Facebook Pixel

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের রপ্তানি পণ্যের তুলনায় আমদানি পণ্য বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি হয়। আমদানি করতে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেশকিছু দ্রব্য আমদানি না করে নিজ দেশে উৎপাদন করা গেলে বাণিজ্য ঘাটতি দূর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ স্বনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব। যেমন- বিভিন্ন ফলের রস, জেলি ও চামড়াজাত বা প্লাস্টিক সামগ্রী দেশে উৎপাদন করে চাহিদা পূরণ করেও রপ্তানি করতে পারি। এ ব্যাপারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ক. অগ্রাধিকার শিল্প কী? খ. "রপ্তানিমুখী শিল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে।"- ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকের ধারণাটি কোন ধরনের শিল্পকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর । ঘ. উদ্দীপকের ধারণাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা কর ।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

উৎস: Board Exam Question DB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) অগ্রাধিকার শিল্প বলতে সেই সব শিল্পকে বোঝায়, যে শিল্পগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সম্ভাবনা থাকে এবং সে কারণে সরকার থেকে বিশেষ প্রেরণা বা পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হয়। (খ) রপ্তানিমুখী শিল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে, কারণ যখন কোনো দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, তখন সেই পণ্যগুলো উৎপাদন করার জন্য দেশে রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের প্রসার ঘটে। এর ফলে নতুন নতুন কারখানা স্থাপিত হয় এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের শিল্পায়নকে আরও বেগবান করে, যা পরোক্ষভাবে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে। (গ) উদ্দীপকের ধারণাটি আমদানি বিকল্প শিল্পকে ইঙ্গিত করে। বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেই পণ্যগুলো নিজের দেশে উৎপাদন করার জন্য শিল্পকারখানা স্থাপন করাকে আমদানি বিকল্প শিল্প বলে। সাধারণত আমদানিকৃত দ্রব্যের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে সমজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন করার নীতিকে আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন কৌশল বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং আমদানি পণ্য বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি দূর করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে বিভিন্ন ফলের রস, জেলি ও চামড়াজাত বা প্লাস্টিক সামগ্রী দেশে উৎপাদন করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সরাসরি আমদানি বিকল্প শিল্পের লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সুযোগ তৈরি হয়। (ঘ) উদ্দীপকের ধারণাটি অর্থাৎ আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর প্রভাবগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: প্রথমত, এটি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশেই আমদানি করা পণ্যের বিকল্প তৈরি হলে বিদেশ থেকে পণ্য কেনার জন্য আর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে না, ফলে মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে। এতে বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকবে। দ্বিতীয়ত, এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠায় নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠলে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে, যা বেকারত্ব হ্রাসে সহায়ক হবে। তৃতীয়ত, এটি দেশের শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় শিল্পের ভিত্তি মজবুত হবে। চতুর্থত, দেশের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে। আমদানির ওপর নির্ভরতা কমলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব হ্রাস পাবে। পঞ্চমত, দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়লে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। পরিশেষে বলা যায়, আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কেবল বাণিজ্য ঘাটতিই দূর করতে পারবে না, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার মাধ্যমে একটি মজবুত ও স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2025)

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের রপ্তানি পণ্যের তুলনায় আমদানি পণ্য বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি হয়। আমদানি করতে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বেশকিছু দ্রব্য আমদানি না করে নিজ দেশে উৎপাদন করা গেলে বাণিজ্য ঘাটতি দূর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ স্বনির্ভরতা অর্জন করা সম্ভব। যেমন- বিভিন্ন ফলের রস, জেলি ও চামড়াজাত বা প্লাস্টিক সামগ্রী দেশে উৎপাদন করে চাহিদা পূরণ করেও রপ্তানি করতে পারি। এ ব্যাপারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

ক. অগ্রাধিকার শিল্প কী?

খ. "রপ্তানিমুখী শিল্প কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে।"- ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকের ধারণাটি কোন ধরনের শিল্পকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকের ধারণাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা কর ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।