(ক)
যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মূলত রপ্তানির উদ্দেশ্যে পণ্য উৎপাদন করে এবং উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগ বিদেশে রপ্তানি করে, সেগুলোকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
(খ)
আমদানি বিকল্প শিল্প হলো এমন এক ধরনের শিল্প যা বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের পরিবর্তে দেশেই সেই পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়।
আমদানি বিকল্প শিল্প যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে:
১. আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায়, ফলে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।
২. দেশীয় কাঁচামাল ও শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
৩. বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমে এবং দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এর ফলে দেশটি পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প (Ready-made Garments Industry)।
যুক্তি: উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, এই শিল্পটি ১৯৭৬ সালে রপ্তানি শুরু করে, মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬% অর্জিত হয় এবং প্রায় ৪৪ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
তৈরি পোশাক শিল্পের সমস্যাসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রতিকূল কর্মপরিবেশ: অনেক কারখানায় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং অগ্নি নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।
২. কাঁচামালের সংকট: প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জন্য এই শিল্পটি অনেকাংশেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সময়মতো কাঁচামাল না পাওয়া গেলে উৎপাদন ব্যাহত হয়।
৩. বিশ্ব বাজারে প্রবল প্রতিযোগিতা: চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে এই শিল্পটি রয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
৪. শ্রমিক অসন্তোষ: মজুরি বৈষম্য, নিম্ন জীবনমান এবং শ্রমিক অধিকারের অভাবের কারণে প্রায়ই শ্রমিক অসন্তোষ ও ধর্মঘট দেখা দেয়।
৫. দক্ষ শ্রমিকের অভাব: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ কারিগরি শ্রমিকের অভাব রয়েছে।
(ঘ)
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। উদ্দীপকের আলোকে এই শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ হতে পারে:
১. কর্মপরিবেশ উন্নয়ন: কারখানায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং আইন প্রণয়ন করা।
২. কাঁচামাল উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান: কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে তুলা ও সুতা উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৩. বাজার সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যকরণ: শুধুমাত্র ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভর না করে নতুন নতুন উদীয়মান বাজারে (যেমন: লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা) রপ্তানি বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো।
৪. দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি: কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলা, যাতে তারা আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার জানতে পারে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
৫. শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন: ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিল্প শান্তি বজায় রাখা।
৬. শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা: কোটামুক্ত বিশ্ববাণিজ্যে টিকে থাকতে বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করা এবং আমদানি শুল্ক নমনীয় করার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো।
উপসংহারে বলা যায়, সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করা সম্ভব, যা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।