Facebook Pixel

বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে 'ক' শিল্প থেকে। 'ক' শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। অনগ্রসর নারীদের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, শিল্পটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। ক. কুটির শিল্প কী? খ. শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে? গ. উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা কোন ধরনের শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ 'ক' দ্বারা নির্দেশিত শিল্পের সমস্যা রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ বাংলাদেশের শিল্প

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) গৃহে পারিবারিক ভিত্তিতে স্বল্প মূলধন এবং সহজলভ্য কাঁচামাল ও ছোটখাটো যন্ত্রপাতির সাহায্যে যে শিল্প পরিচালিত হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। (খ) শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশ তার অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, যার ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায়। দেশে কল-কারখানার প্রসার ঘটলে আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে এবং দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয় এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেশেই তৈরি করা যায়। এভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে স্বনির্ভরতা অর্জন করে। (গ) উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা তৈরি পোশাক শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা: একটি দেশ যখন অন্য দেশে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, তাকে রপ্তানি বলে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান অপরিসীম। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, 'ক' শিল্প থেকে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে এবং এটি অনগ্রসর নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে হুবহু মিলে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি বিশাল অংশ এই খাত থেকে অর্জিত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের 'ক' দ্বারা তৈরি পোশাক শিল্পকেই বোঝানো হয়েছে। (ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশে 'ক' দ্বারা নির্দেশিত তৈরি পোশাক শিল্পের নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: প্রথমত, কাঁচামালের অভাব: তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল দেশেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। ফলে উদ্যোক্তাদের বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায়। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি সংকট: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের অভাব এই শিল্পের একটি বড় বাধা। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং শ্রমিকরা অলস বসে থাকে, যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, দক্ষ শ্রমিকের অভাব: এই শিল্পে প্রচুর শ্রমিক নিযুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে কারিগরি দক্ষতার অভাব রয়েছে। অধিকাংশ শ্রমিক অদক্ষ এবং তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। চতুর্থত, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা: বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। উন্নত প্রযুক্তির অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পঞ্চমত, রাজনৈতিক অস্থিরতা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ধর্মঘট এবং শ্রমিক অসন্তোষের ফলে অনেক সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিশেষে বলা যায়, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামাল, জ্বালানি, দক্ষ জনশক্তি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পটি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে 'ক' শিল্প থেকে। 'ক' শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। অনগ্রসর নারীদের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে, শিল্পটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

ক. কুটির শিল্প কী? খ. শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে? গ. উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা কোন ধরনের শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ 'ক' দ্বারা নির্দেশিত শিল্পের সমস্যা রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।